যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তিতে আরও সংশোধন চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তিতে আরও সংশোধন চান ট্রাম্প

ফন্ট সাইজ:

চলতি বছরের শুরুতে শুরু হওয়া সংঘাতের অবসান ঘটাতে প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে আরও কিছু সংশোধন আনার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সংশোধনগুলো মূলত হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রোববার বলেন, ইরানের অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত না হলে তেহরান কোনো চুক্তিতে সম্মত হবে না। শুক্রবার ট্রাম্প ও তার শীর্ষ উপদেষ্টারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে বৈঠকে বসেন। তবে বৈঠক শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

শনিবার প্রথম অ্যাক্সিওস যে খসড়া চুক্তির কথা প্রকাশ করে, তাতে ৬০ দিনের জন্য সহিংসতা বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার একটি কাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে। ফলে দেশটি স্থগিত বা জব্দ হয়ে থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। রোববার নতুন সংশোধনের খবর প্রকাশিত হওয়াকে কয়েকদিন ধরে চলা হোয়াইট হাউস ও তেহরানের আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আলোচনা কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে একটি চুক্তির কাঠামো তৈরিকে কেন্দ্র করে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, দুই দেশ একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে, যা ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে পরিচিত। তবে এটি কার্যকর হতে ট্রাম্প এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদন প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার নিজের পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পকে দেয়া ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমার একমাত্র নিশ্চয়তা দরকার যে তাদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তারা এতে সম্মত হয়েছে এবং বিষয়টি খুবই আকর্ষণীয়। তবে তিনি এটিও বলেন যে, চুক্তি করতে তার কোনো তাড়াহুড়া নেই। শুক্রবার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে সিচুয়েশন রুম বৈঠকের আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি চুক্তিটি গ্রহণের দিকে ঝুঁকছেন।

বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল এমন চুক্তিতেই সম্মত হবেন যা আমেরিকার জন্য ভালো এবং তার নির্ধারিত লাল রেখাগুলো পূরণ করে। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবারের বৈঠকেই ট্রাম্প চুক্তিতে কয়েকটি সংশোধনী চেয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি আরও পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সপ্তাহান্তে সিঙ্গাপুর সফরকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি প্রেসিডেন্টের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে সামরিক হামলা আবার শুরু হতে পারে। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমাদের অস্ত্রভাণ্ডার যথেষ্ট প্রস্তুত রয়েছে। শুধু ওই অঞ্চলে নয়, সারা বিশ্বেই। কারণ আমরা উন্নত ও অধিকসংখ্যক উভয় ধরনের অস্ত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখি।

তবে ইরানি কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসের বক্তব্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, স্পষ্ট কোনো উপসংহারে না পৌঁছানো পর্যন্ত এখন যা কিছু বলা হচ্ছে, তার সবই অনুমাননির্ভর। অন্যদিকে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, চুক্তির খসড়া নিয়ে দরকষাকষি এখনো চলছে এবং উভয় পক্ষ নিয়মিতভাবে সংশোধনী প্রস্তাব করছে। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তেহরান চায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা শুরু হওয়ার আগে জব্দ হয়ে থাকা সম্পদ মুক্ত করে দেয়া হোক।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, রোববারের সংশোধনীগুলো মার্কিন প্রস্তাবে ট্রাম্পের আনা তৃতীয় দফার পরিবর্তন। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি এবং আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন