শ্রীপুরে নারীকে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতার মারধর

ফন্ট সাইজ:

গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের লোকজনকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ সংগঠন শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুল্লাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুল্লাহ এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। হামলায় তিন নারীসহ চারজন আহত হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি) মহাসড়কের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫ জনের বিরুদ্ধে লুটপাট ও হত্যাচেষ্টা মামলা রুজু হয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম হামলা ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আহতরা হলেন- বেড়াইদেরচালা এলাকার মৃত আব্দুল আউয়ালের স্ত্রী সমলা খাতুন (৯৫), মৃত. আব্দুল আউয়ালের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০), আতিকুলের স্ত্রী মাসুদা আক্তার (৪২), তার মেয়ে বিথী আক্তার (২৫)। গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। অন্যদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার পর রোববার বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে নিয়ে যায় স্বজনরা।

আসামিরা হলেন- একই এলাকার মৃত হুসেন আলীর ছেলে হাবিবুল্লাহ (৪৮), তার ভাই সুলতান উদ্দিন (৫০), ফয়সাল (৩০), ফাহাদ (২৮), নুজবেল (২৫), আমিনুল (২৮), হেলাল (৩৮), রাজিব (৩৫), শহিদুল (৪৫) এবং আমানত (২৫)। ঘটনার পর থেকে আসামিরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। হামলায় নেতৃত্ব দেয়া প্রধান আসামি হাবিবুল্লাহ নিষিদ্ধ সংগঠন শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর। তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা আন্দোলনে হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুল্লাহ এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন লোকজন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা ভাইরাল হওয়া মারধরের ভিডিও’র মন্তব্য লিখেন- একাধিক হত্যা মামলার আসামি কীভাবে প্রকাশ্যে একজন নিরীহ নারীকে এভাবে পিটিয়ে আহত করে। সে নিয়মিত বাড়িতে অবস্থান করলেও পুলিশ কি তাকে গ্রেপ্তার করছে না। তারা প্রধান আসামি হাবিবুল্লাহকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। আসামিরা পালিয়ে থাকায় এবং তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগে গতকাল ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন