পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পশু কোরবানি ও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রাজধানীর দুই হাসপাতালেই অন্তত সহস্রাধিক মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে পশুর লাথিতে কারও পা ভেঙেছে। কেউ আবার মাংস কাটতে গিয়ে নিজের আঙুল কেটে ফেলেছেন। কেউ আবার মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে আহত হয়েছেন। আর এদের বেশির ভাগই চিকিৎসা নিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান বা পঙ্গু হাসপাতালে। এ ছাড়াও ছুটির দু’দিনে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)’র বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭১৯ জন রোগী।
পঙ্গু হাসপতালের তথ্য বলছে, ঈদের দিন ও ঈদের পরদিন অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এই দু’দিনে হাসপাতালটিতে অন্তত ৫৬০ জন জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেলেও এখনো হাসপাতালটির বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন অনেকে। এমনই একজন রাজধানীর মেরাদিয়ার আকবর আলী। কোরবানির সময় গরুর লাথিতে তার ডান পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। বর্তমানে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি দেয়া হয়েছে। আকবর আলী বলেন, “কিছু বুঝে ওঠার আগেই এমন একটা লাথি দিলো গরু যে, আমি ছুটে গিয়ে পড়ি। এরপর দেখি আমার পায়ের হাড় ভেঙে বের হয়ে আসছে।
পরে সকলে ধরাধরি করে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।” পশু কোরবানি দিতে গিয়ে বাম হাতের দুই আঙুল হারিয়েছেন তুরাগের মামুন তালুকদার। তিনি বলেন, গরুটা অনেক রাগী ছিল। কোরবানির সময় গাছের সঙ্গে বাঁধতে গিয়ে এমন একটা গুঁতো দিয়েছে, আমি ছুটে গিয়ে দূরে রাখা টিনের উপর পড়ি। পরে ওই টিনে লেগেই আমার বাম হাতের দুই আঙুল কেটে গেছে। কোরবানি দিতে গিয়ে আঙুল ভেঙেছেন মিরপুরের টোলারবাগের মোহাম্মদ তুষারও। তিনি বলেন, দড়িগুলো পিছলা ছিল। গরু ফেলার সময় আমার বাম হাতের আঙুল ভেঙে যায়।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ঈদের ছুটিতে আহত চিকিৎসা নিয়েছেন অনেকে। কোরবানির প্রথম দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ১৯৫ জন। ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় কোরবানি দিতে গিয়ে আহত হয়ে আরও অন্তত শতাধিক লোক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই কোরবানির পশু জবাই, কাটাকাটি ও প্রস্তুত করার সময় অসাবধানতাবশত আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কলিন্স মল্লিক বলেন, আহতদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। তবে গুরুতর আহতদের পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের দিন ছুটির মধ্যেও চিকিৎসকরা অতিরিক্ত চাপ নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. নির্মল কান্তি বিশ্বাস বলেন, রোগীদের বেশির ভাগই কোরবানির সময় কাটা ও আঘাতজনিত ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
তাদের মধ্যে বেশির ভাগই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় অনেক রোগীকেই ভর্তি দেয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, একাধিক চিকিৎসক এবং বিভিন্ন সেগমেন্টে অর্থোপেডিক ক্যাজুয়ালটি আলাদা ডেস্ক হিসেবে কাজ করছেন। ঈদের ছুটিতেও হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসায় অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। গুরুতর আহতদের অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
