তিন সপ্তাহের ব্যবধানে পশ্চিমবঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হচ্ছে

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর তার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হতে চলেছে। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে দেরি হওয়া নিয়ে নানা মতপার্থক্যের কথা শোনা গিয়েছিল। অবশেষে সোমবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হতে চলেছে। রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক ভারসাম্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনার পর মন্ত্রীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ৯ই মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তার সঙ্গে আরও পাঁচ মন্ত্রীও শপথ গ্রহণ করেছিলেন। সেই সময় থেকেই শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়ে জোর আলোচনা চলছিল। রোববার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের জনগণের রায়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রবাদী সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হতে চলেছে। মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ৩৫জন মন্ত্রী সোমবার সকাল ১১টায় লোকভবনে (আগের রাজভবন) শপথ গ্রহণ করবেন।
লোকভবনে কতোজন মন্ত্রী শপথ নেবেন, তাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীসহ বর্তমানে ছয় সদস্যের মন্ত্রিসভার সঙ্গে আরও ৩৫ জন যুক্ত হবে। ফলে মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ৪১। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, কোনো রাজ্যের বিধানসভার মোট সদস্য সংখ্যার ১৫ শতাংশের বেশি মন্ত্রী হতে পারেন না। সেই হিসাবে ২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সর্বোচ্চ ৪৪ জন মন্ত্রী রাখা সম্ভব।

বিজেপি সূত্রের দাবি, মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে কিছুটা সময় নেয়ার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এবারের নির্বাচনে রাজ্যের প্রায় সব জেলা থেকেই বিজেপি উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে। তাই দলের শীর্ষনেতৃত্ব চেয়েছেন, মন্ত্রিসভায় যেন সব জেলার যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়। সেইসঙ্গে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও জাতের মানুষের প্রতিনিধিত্বও নিশ্চিত করা জরুরি। সেই কারণেই সময় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন হতে চলেছে। গত ৪ঠা মে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে প্রথম বারের মতো পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে।

জানা গেছে, সোমবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করে দিতে পারেন। বিজেপির ২০৮ জন জয়ী বিধায়কদের মধ্যে কাদের মন্ত্রী করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি শুভেন্দু। তবে সূত্র জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র ও অর্থ দপ্তর নিজের কাছে রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বতর্মানে দিলীপ ঘোষ রয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন এবং প্রাণিসম্পদ বিকাশ এবং কৃষি বিপণনের দায়িত্বে, অগ্নিমিত্রা পাল রয়েছেন নারী-শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ এবং পৌর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর, অশোক কীর্তনিয়া খাদ্য ও সরবরাহ এবং সমবায় দপ্তর, ক্ষুদিরাম টুডু আদিবাসী উন্নয়ন এবং নিশীথ প্রামাণিক: রয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং যুব ও ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্বে।

বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ এবং স্বপন দাসগুপ্তের মতো বিজেপির প্রবীণ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং এবং বিজেপির প্রবীণ নেতা রিতেশ তেওয়ারিও অন্যান্য শীর্ষ দাবিদারদের মধ্যে রয়েছেন।

জ্যেষ্ঠতার পাশাপাশি বিজেপি আঞ্চলিক এবং গোষ্ঠীগত প্রতিনিধিত্বকেও বিবেচনায় নিতে পারে। বিশেষ করে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য। মন্ত্রিসভায় উত্তর এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপির অধিকাংশ বিধায়কই প্রথম বারের মতো বিধায়ক হয়েছেন, তাই মন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অবশ্য নামের তালিকা শুভেন্দু অধিকারী অনুমোদন করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন