নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে কামাল উদ্দিন (৫০) ও জুবায়ের হোসেন রাকিব (২৩) নামে দুই ব্যক্তি খুন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার দিবাগত রাতে জেলার বেগমগঞ্জ ও সদর উপজেলায় এই দু’টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত কামাল উদ্দিন সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লচি সরদার বাড়ির সোলেমানের ছেলে এবং জুবায়ের হোসেন রাকিব বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির হানিফের ছেলে।
জানা গেছে, দাদপুর ইউনিয়নের কামালের ছেলে তারেক ও ভাতিজা ফরহাদ পাশের হাজী বাড়ির রনি ও শামুর সঙ্গে চলাফেরা করতেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে তারা লচি সরদারের বাড়ির পেছনে জুয়ার আসর বসান।
বিষয়টি জানাজানি হলে পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ফরহাদের বাক?বিতণ্ডা হয়। এর জেরে শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে লচি সরদারের বাড়িতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় ঝগড়া থামাতে গেলে মিনু আলী হাজী বাড়ির ইমাম উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন কামাল উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। হামলায় কামাল উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কামাল উদ্দিনের ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. তোফায়েল বলেন, হামলার সময় আমার ভাই কামাল তাদের বাধা দিতে গেলে তার ওপর হামলা করা হয়। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শ্রীরাম চন্দ্র ভট্টাচার্য বলেন, জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে নিহত ব্যক্তির ভাতিজা ফরহাদকে মারধর করা হয়। চাচা কামাল ঝগড়া থামাতে গেলে তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ব্যক্তির শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরদিকে, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে কয়েক দিন আগের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়। শনিবার রাতে পাকমুন্সিরহাট বাজারে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় এলাকার লোকজন রাকিবকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তিনি তার ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকার একটি অন্ধকার স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছোট ভাই রিমনকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে রাকিবের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।
