মানিকগঞ্জে ভাবী-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

ফন্ট সাইজ:

পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়েছে ছোট ভাই ইউসুফ আলী। এ ঘটনায় বড় ভাই আব্দুস ছালাম গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের বাচামারা ফকিরপাড়া গ্রামে। নিহতরা হলেন- আব্দুস ছালামের স্ত্রী আমেনা (২৮) ও তাদের দেড় বছর বয়সী ছেলে আসওয়াদ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুস ছালাম ও তার ছোট ভাই ইউসুফ আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের ধারণা, জমিজমা ও পারিবারিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং তারই জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার রাতে ইউসুফ ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে প্রবেশ করে ভাবী আমেনা ও ভাতিজা আসওয়াদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। নৃশংস ওই হামলায় ঘটনাস্থলেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়। পরে বাড়ি ফিরে বাধা দিতে গেলে আব্দুস ছালামের ওপরও হামলা চালানো হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি দা ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মো. ইউসুফ মোল্লা (৩৫) তার বড় ভাই সালাম মোল্লা (৪০) ও তার স্ত্রী আমেনার সঙ্গে পারিবারিক বিষয়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এর একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ইউসুফ মোল্লা তার ভাবী আমেনা ও ভাতিজা আসওয়াদকে কুপিয়ে জখম করে। জখম গুরুতর ও প্রচুর রক্তপাত হওয়ায় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে দা ও হাতুড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও পেছনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন