মালয়েশিয়ার তাইপিং কারাগারে ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি সংঘটিত দাঙ্গার ঘটনায় দেশটির মানবাধিকার কমিশন সুহাকামের গণতদন্ত প্রতিবেদনে বন্দী নির্যাতনের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তবে সুহাকামের গণতদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ।
দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা 'বারনামা' জানিয়েছে, বুধবার (২৭ মে) এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার কারা বিভাগ বলেছে, কারা ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসহ প্রতিবেদনের প্রতিটি সুপারিশ এবং উত্থাপিত প্রতিটি বিষয় তারা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। তাছাড়া তারা সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করবে এবং প্রতিটি সুপারিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।
বারনামার ভাষ্যে, বিভাগটি আরও বলেছে, "আমরা সম্পূর্ণ সততার সাথে প্রতিবেদনটি বিস্তারিত ও গভীরভাবে পরীক্ষা করব, যাতে উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হয়। নিরাপত্তা বিভাগ, কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং মানবাধিকার সংরক্ষণের প্রতি তার অঙ্গীকারে অবিচল রয়েছে।" পাশাপাশি বিভাগের সকলকে অনুরোধ করেছে, এই প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো অনুমান বা অকাল সিদ্ধান্তে না যেতে।
এ বিষয়ে দেশটির নিউ স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, গত ২৫ মে সোমবার সুহাকামের গণতদন্ত প্যানেল ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি সংঘটিত তাইপিং কারাগার দাঙ্গার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সুহাকামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হিশামুদ্দিন এমডি ইউনুস জানিয়েছে, কারাগারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের গুরুতর অবহেলা এবং নিষ্ক্রিয়তা সরাসরি এই মানবাধিকার লঙ্ঘনে অবদান রেখেছে এবং ৬১ বছর বয়সী বন্দী গান চিন এং-এর মৃত্যু ঘটিয়েছে।
এছাড়া দেশটির মালেশিয়াকিনি আরও লিখেছে, সুহাকামের তদন্ত প্রতিবেদনে জানাগেছে, প্যানেলের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, হল বি থেকে ব্লক ই-তে স্থানান্তর অভিযানের সময় বিপুলসংখ্যক কারারক্ষী বন্দীদের উপর অতিরিক্ত শারীরিক সহিংসতামূলক শারীরিক নির্যাতন; লাঠি ও পেপার স্প্রে-সহ নিরাপত্তা সরঞ্জামের অপব্যবহার করে; কারা কর্মকর্তারা আহত বন্দীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে ব্যর্থ হয়; চিকিৎসা নথিতে জালিয়াতির বিষয়ও পাওয়া গেছে; এবং বন্দীদের অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের শিকার করা হয়েছে। এছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে যে, কারারক্ষীরা হাতকড়া পরা বন্দীদের বারবার ঘুষি ও লাথি মেরে এবং পেপার স্প্রে ব্যবহার করে নির্যাতন করেছে। লাঠির নির্বিচার ব্যবহারে মাথায় আঘাত ও হাত-পা ভেঙে যাওয়ার মতো গুরুতর জখমের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, সুহাকাম চেয়ারম্যান হিশামুদ্দিন আরও জানিয়েছেন, বন্দীদের বিরুদ্ধে কারারক্ষীদের দায়ের করা বেশ কিছু পুলিশ রিপোর্টে মিথ্যা ও অসত্য তথ্য ছিল, যেখানে বন্দীদেরই আক্রমণকারী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। একইসাথে ঘটনার সময় তোলা ছবি ও ভিডিও প্রমাণ মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। কারাগারের চিকিৎসা কর্মীরা বন্দীদের জখমকে 'পড়ে যাওয়ার' ফল হিসেবে দেখিয়ে কারারক্ষীদের রক্ষার চেষ্টা করেছেন বলেও জানিয়েছে সুহাকাম।
নিউ স্ট্রেইটস টাইমস এবং মালেশিয়াকিনি আরও লিখেছে, তদন্তে সরাসরি তাইপিং কারাগার পরিচালক নাজরি মোহাম্মদ ও ডেপুটি পরিচালক শাহরুল ইজ্জাত হামিদকে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, চিকিৎসা কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আলাদা তদন্ত শুরু করা হবে এবং পেশাদারি গাফিলতির ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।
এছাড়া ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে আরও লিখেছে, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার দিক থেকে, ডিএপি জাতীয় চেয়ারম্যান ও ডিজিটালমন্ত্রী গোবিন্দ সিং দেও পুলিশ মহাপরিদর্শক ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে কড়া ভাষায় জবাবদিহিতা দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলকে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তাইপিং কারাগার ওয়ার্ডেন রিন্ডে ও'নেল ভিক্টরের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযোগ আনা হয়নি, বিশেষত সুহাকামের ওই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে যেখানে সুপরিকল্পিত গোষ্ঠীগত শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি পরবর্তী সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে।
সুহাকামের তদন্ত প্যানেল চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাইপিং কারাগারটিকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরের সুপারিশ করেছে, বলেছে এটি আর কারাগার হিসেবে ব্যবহারের উপযুক্ত নয় বলে জানিয়েছে, বারনামা।
তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি কারা বিভাগের
সুহাকামের তদন্ত প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ার কারাগারে বন্দী নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র
স্টাফ রিপোর্টার, মালয়েশিয়া থেকে-
অনলাইন
১ মাস আগে
২৮ মে (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৭ঃ২৮ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
