বিপিএলের সর্বশেষ আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের পথচলা ছিল অনেকটা রূপকথার মতো, যেখানে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে মালিকানা সংকটে পড়ে দলটির অংশগ্রহণই যখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) স্বয়ং দলটির পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আর্থিক জটিলতার সেই কঠিন মুহূর্ত কাটিয়ে মাঠের লড়াইয়ে ক্রিকেটাররা অসামান্য দক্ষতা প্রদর্শন করে টুর্নামেন্টের ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যান, যদিও শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অল্পের জন্য অপূর্ণ থেকে যায়। তবে মাঠের সেই সাফল্যের পাশাপাশি মাঠের বাইরের বড় প্রাপ্তি হিসেবে গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্রিকেটাররা তাদের বকেয়া শতভাগ পারিশ্রমিক বুঝে নিয়েছেন। আসরের সর্বোচ্চ ১ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যে চুক্তিবদ্ধ হওয়া নাঈম শেখের হাতে অবশিষ্ট চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটে। বিসিবি আগেই টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে অর্ধেক পারিশ্রমিক প্রদান করেছিল এবং বাকি অর্ধেক প্রদানের সময় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু ও বিসিবির অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল
আবেদীন ফাহিম উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের পাওনা নিশ্চিত করেন। মালিকপক্ষ না থাকা সত্ত্বেও ক্রিকেটারদের আর্থিক নিশ্চয়তা প্রদান করে বোর্ড পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়েছে যা দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
পারিশ্রমিক হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও জাতীয় দলের পেসার শরিফুল ইসলাম তার অতীতের অমীমাংসিত অভিজ্ঞতার কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। শরিফুল জানান যে, চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে এবার সব টাকা বুঝে পেলেও তার আগের আসরে চিটাগং কিংসের হয়ে খেলা সময়ের বকেয়া টাকা তিনি এখনও পাননি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে বিপিএলে দলের সংখ্যা বাড়লে যেন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মান এবং আর্থিক সক্ষমতা রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মতো নিশ্চিত করা হয়। শরিফুলের মতে, মানসম্পন্ন দল গঠন এবং সময়মতো পারিশ্রমিক প্রদান করা হলে ক্রিকেটাররা এই টুর্নামেন্টে খেলতে আরও বেশি আগ্রহী হবেন এবং বিপিএলের সামগ্রিক জৌলুস ও মান বৃদ্ধি পাবে।
পারিশ্রমিক পেলেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের ক্রিকেটাররা
স্পোর্টস রিপোর্টার
২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
