হামের সংক্রমণের জন্য বিগত দুই সরকার দায়ী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের সংক্রমণের জন্য বিগত দুই সরকার দায়ী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

দেশে হাম সংক্রমণের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেছেন, অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অত্যন্ত সীমাবদ্ধতার ভিতরে আমরা ক্ষমতা গ্রহণ করেছি, আমাদের কাছে কোনো অর্থকড়িও ছিলো না যে রাতারাতি আমরা কিছু করতে পারবো। এর মধ্যে হামের সংক্রমণ ঘটেছে। এই হাম সংক্রমণের পিছনে বিগত দুইটা সরকার দায়ী। বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের আমলে এবং অন্তর্বর্তীকালীনের সময় এ দেশে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দকৃত টাকা লুটপাট হয়েছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি, এডিবি’র পক্ষ থেকে ৫ বার তারা অনুরোধ করা সত্ত্বেও প্রাইভেট লোকদের কাছ থেকে হামের টিকাসহ বিভিন্ন টিকা কিনে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টিকা সংগ্রহ করতে যায়নি। 

এসময় মন্ত্রী আরো বলেন, প্রত্যেক চার বছর পর পর এমআর টিকার ক্যাম্পেইনিং করার কথা ছিলো। কিন্তু ২০২০ এর ডিসেম্বরের পরে তারা সেটি করেনি। যে কারণে আমাদের উপরে এসে পড়েছে। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে ডোনার দেশগুলোর সহযোগিতায় আমরা অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে হামের টিকা সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি। এর মধ্যে সরবরাহ দেরি হলে আমাদের আরো লোক মারা যেতে পারতো।  এজন্যে গ্যাভি নামক একটি সংস্থার কাছে অনেকগুলো হামের টিকা ছিলো, সেগুলো আমরা তাদেরকে অনুরোধ করে ধার হিসেবে নিয়েছি। 

তিনি বলেন, এপ্রিল মাসের ৪ তারিখ থেকে প্রথমে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, যে যে জেলায় হামের সংক্রমণ বেশি ছিলো, ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় আমরা হাম কার্যক্রম শুরু করেছি। পরবর্তীতে চারটি বড় বড় সিটি কর্পোরেশন- ময়মনসিংহ, বরিশাল, ঢাকা সিটি নর্থ-সাউথে শুরু করেছি। আমি অত্যন্ত আনন্দিত গত মাসের ২০ তারিখ থেকে আমরা যখন পর্যাপ্ত টিকা পেয়েছি, দেশব্যাপী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে টিকা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি যা এই ২০ তারিখে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে আমরা দুই কোটির উপরে বাচ্চাকে টিকা দিতে সক্ষম হয়েছি, যেটা ১০৩ পার্সেন্ট, যা টার্গেটের চেয়েও বেশি। 
তিনি আরো বলেন, শুধু এই পরিসংখ্যানের উপর আমরা বসে থাকিনি, ক্যাম্পেইন না হলেও এই মাসের ২১ তারিখ থেকে বাংলাদেশের সকল উপজেলায় আমরা কন্টিনিউ করছি, খুঁজে খুঁজে টিকা দিচ্ছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক কিছু নাই। এর ভিতরে আমরা কিন্তু ম্যানেজ করে যাচ্ছি। আমাদের ডাক্তাররা ম্যানেজ করে যাচ্ছেন। আমরা হামকে মোকাবেলা করেছি। ডেঙ্গুর জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর মধ্যে এক লক্ষের উপরে ডেঙ্গুর স্যালাইন ইতোমধ্যে আমরা স্টক করে ফেলেছি। যাতে করে ডেঙ্গু যদি একবার হানা দেয়, আমরা যাতে স্যালাইনের চাহিদা পূরণ করতে পারি।

জনবলের ঘাটতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা জুলাইয়ের পর থেকে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছি। তার মধ্যে ৮০ ভাগ হবে মহিলা। মহিলা নেয়ার কারণ আমরা মিডওয়াইফার করবো, আমরা কেয়ারগিভার দিবো। আমাদের দেশের প্রসূতিরা চারটি স্টেজে ডাক্তারের কাছে যাওয়া বাঞ্চনীয়। দুইটা স্টেজ যায়, থার্ড স্টেজে ওদের পিছনে দালাল লাগে, ক্লিনিকের দালালরা লাগে, লেগে কোনোক্রমে সিজারিয়ানে নিয়ে যেতে যায়। চারটা স্টেজে আমাদের মায়েদের কাছে স্ট্যান্ডবাই কেয়ারগিভার রাখতে চাই, প্রত্যেকটা গ্রামে। যাতে করে মায়েদের স্বাস্থ্যের সুনিশ্চিত সেবা আমরা প্রদান করতে পারি। 

মন্ত্রী বলেন, অনেক হাসপাতাল ৭০ থেকে ১০০ বছর হয়েছে। এগুলোকে আমরা নতুনভাবে প্রকল্প নিচ্ছি। এইবারের বাজেটে প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্যসেবার খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজেট আমাদেরকে দিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ প্রথম দিন থেকে অর্থাৎ জুলাইয়ের এক তারিখ থেকে আমরা সকল হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার জন্য যা যা দরকার, সেসব সরবরাহ দেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।
পরিদর্শনের সময় কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল হাসান মারুফ প্রমুখ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

এ সময় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মজিবর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগসমূহ:

Md. Jahirul Islam

১ মাস আগে

সরকার আসে সরকার যায়। কিন্তু আমলারা থাকে বহালতবিয়তে। আমার মতে ড. ইউনূস সরকারকে দায়ী না করে এখানে আমলাদের জবাবদিহিতার সম্মুখীন করা উচিত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ড. ইউনূস সরকারের সময় বন্ধ হয়ে যায়নি। এইগুলো ছিলো এখনো আছে। মন্ত্রী মহোদয়গণ বিভিন্ন দিকে দোষ না চাপিয়ে সমস্যার মূলে হাত দিন।

Andalib

১ মাস আগে

আওয়ামী লীগ মাঠে নেই, সে সুযোগে আওয়ামী লীগের উপর মিথ্যা অভিযোগ চাপিয়ে দেবেন সেটা হবে না। এখানে আওয়ামী লীগের কী ব্যর্থতা ছিল সেটা প্রমাণ
সহ হাজির করুন।

মন্তব্য করুন