কক্সবাজার জেলা আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্রসহ আটক জিয়াউল হক জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার সকালে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ভুক্তভোগী লিয়াকত আলী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক আরেকটি মামলা করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন।
দুই মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সামনে এই গুলির ঘটনা ঘটে। বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিে গুলির শব্দে মুহূর্তেই আদালত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ২০১৪ সালের একটি মারামারির মামলায় হাজিরা দিতে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী মেম্বার সহযোগীদের নিয়ে আদালতে যান।
হাজিরা শেষে আদালত ভবন থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় দুইটি মোটরসাইকেলে আসা অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় লিয়াকত আলীর চাচাতো ভাই মইন উদ্দিন (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রনিসহ অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ মইন উদ্দিনকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার সময় লিয়াকত আলীর সঙ্গে থাকা লোকজন ধাওয়া দিয়ে হামলাকারীদের একজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, হত্যাচেষ্টার ঘটনায় লিয়াকত আলী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওসি জানান, আটক জিয়াউল হক জিয়াকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, হামলার পেছনের কারণ এবং জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।
