সাভারে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী শামীমের সঙ্গে সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষনিক প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে সাভার মডেল থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।
ক্লোজ হওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন, সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আসিফুর এবং এএসআই মেরাজ।
পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, আমরা সবসময় আইন অনুযায়ী কাজ করি। তাই মাদক ব্যবসায়ী শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অপরাধে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাথে সাথেই ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।
সাংবাদিকদের উপর হামলার বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনার সাথে সাথে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করি এবং ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের ক্যামেরা, মোবাইলসহ ছিনতাই হওয়ার জিনিসপত্র উদ্ধারসহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা এজাহার নামীয় আসামীদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
ঈদ কেন্দ্রিক নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ সুপার আরও জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্নে করতে পুলিশ সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। উৎসবের ছুটিতে যারা বাড়ি যাবেন, তাদের ফাঁকা বাসায় যেন কোনো অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা বা চুরি-ডাকাতি না ঘটে, সেজন্য পুলিশের বিশেষ তৎপরতা ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এ সময় তিনি সাভার থানার বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এর আগে তিনি আশুলিয়া ও ধামরাই থানা পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, গত তিন দিন আগে সাভারের রাজাশন এলাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামীমের আস্তানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন দেশ টিভি ও এসএ টিভির তিন সাংবাদিক। সন্ত্রাসীরা তাদের পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এই ঘটনায় সাভার মডেল থানায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামীমকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
