পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দুইদিন বাকি। শেষ সময়ে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে কোরবানির পশু কেনাবেচা জমে উঠলেও দামে রয়েছে বড় ধরনের তারতম্য। হাটগুলোতে পশুর সরবরাহ প্রচুর থাকলেও সেই তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি কম। তবে স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি সিলেটের পাইকারদের ভিড়ে মাঝারি আকারের গরুর দাম বেড়েছে অনেকটাই।
জানা যায়, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৫০ হাজার ৪৯৪টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫৩ হাজার ৪০১টি পশু, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ২১ হাজার ১৭৬টি ষাঁড়, ১১ হাজার ৮৯৭টি বলদ, ৬ হাজার ৮৪১টি গাভী, ৪১৫টি মহিষ, ৭ হাজার ৯৬৩টি ছাগল এবং ৪ হাজার ২২২টি ভেড়া। তিনি আরও জানান, উদ্বৃত্ত পশুর দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাতক উপজেলা, যেখানে ৩ হাজার ৪১৭টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২ হাজার ২১৯টি, দিরাইয়ে ৩৫৫টি, দোয়ারাবাজারে ২৭২টি, ধর্মপাশায় ১২৩টি, শাল্লায় ৮৫টি এবং জগন্নাথপুরে ৮১টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
অন্যদিকে জামালগঞ্জে ২ হাজার ৬৫৫টি, তাহিরপুরে ১ হাজার ১২৪টি ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৯৮টি পশুর ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, এবার জেলায় সুস্থ ও সবল পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু এলাকায় খুরা রোগ দেখা দিলেও তা এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, জেলায় নিবন্ধিত খামারির সংখ্যা ৭৩৭টি। কোরবানি উপলক্ষে এবার জেলায় মোট ৬০টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে স্থায়ী ২৬টি এবং অস্থায়ী ৩৪টি। পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে ১৯টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। তাহিরপুর উপজেলার কামড়াবন্দ গ্রামের খামারি উজ্জ্বল মিয়া বলেন, তাহিরপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় বাজার বাদাঘাট পশুর হাটে ১৭টি বড় ও মাঝারি ধরনের গরু তুলেছি। কিন্তু বড় গরুর দাম কম হওয়ায় এখন পর্যন্ত মাত্র সাতটি গরু বিক্রি করতে পেরেছি। এবার ছোট গরুর দাম তুলনামূলক বেশি। ক্রেতা ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বড় বাজার শুনে এ হাটে এসেছি। কিন্তু ছোট ও মাঝারি ধরনের গরুর দাম অনেক বেশি। গত ঈদে যে গরু ৮০ হাজার টাকায় কিনেছিলাম, এবার একই ধরনের গরু ১ লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ও তাহিরপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, এবার হাটে দেশীয় পশুর সরবরাহ ভালো। বর্তমানে মাঝারি ও বড় আকারের গরু ৬০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে ভারতীয় গবাদিপশু অনুপ্রবেশ করতে না পারে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো গরু, মহিষ বা ছাগল ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এবার জেলায় গবাদিপশুর কোনো সংকট নেই বরং চাহিদার তুলনায় পশু বেশি রয়েছে।
