মৃত্যুর ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ সাজানোর অভিযোগ আসামিপক্ষের

মৃত্যুর ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ সাজানোর অভিযোগ আসামিপক্ষের

ফন্ট সাইজ:

পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাগলকে গাছের পাতা খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের বাক‌বিতণ্ডার পর মো. মাহাবুল প্রামাণিক (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে মারধরে নয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি অভিযুক্ত তসলিম উদ্দিনের পরিবারের। পূর্ববিরোধের জেরে স্বাভাবিক মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে প্রচার করে তাদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। সোমবার দুপুরে ঈশ্বরদী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মামলার প্রধান আসামি তসলিম উদ্দিনের স্ত্রী মনিরা খাতুন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, জমিজমা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। রোববার সকাল ১১টার দিকে নিহতের ভাই সাহাবুলের স্ত্রী নিজেদের ছাদ থেকে লাঠি দিয়ে পাশের বাড়ির তসলিম উদ্দিনের বাগানের আম ও লিচুর ডাল ভেঙে ছাগলকে পাতা খাওয়াচ্ছিলেন।

এ সময় তসলিম উদ্দিনের ভাই আবুল বাসার বাধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আবুল বাসারের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য, এ সময় দূর থেকে হট্টগোল শুনে ঘটনাস্থলের দিকে আসার সময় হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মাহাবুল প্রামাণিক। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মনিরা খাতুন বলেন, মারামারির সময় মাহাবুল ঘটনাস্থলে ছিলেন না। দূর থেকে এগিয়ে আসার সময় তিনি হঠাৎ স্ট্রোক করে পড়ে যান। তাকে কেউ আঘাতও করেনি।

এর আগেও তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার করে আমাদের পরিবারের পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহতের ভাই মো. সাহাবুল প্রামাণিক।

তিনি বলেন, আসামিপক্ষের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। হৃদরোগের সমস্যা আমার ছিল, আমার ভাইয়ের নয়। ঘটনাস্থলে আমার ভাইকে মারধর করা হয়েছে এবং সেই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। মামলা থেকে বাঁচতেই তারা এখন মনগড়া গল্প বলছে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন