ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন গোটা বিশ্ব কাঁপবে, ঠিক তখনই দেশের মাটিতে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্রিকেট যুদ্ধ। আগামী ১১ই জুন শুরু হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহাযজ্ঞ। এর ঠিক ৫ দিন আগে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসছে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। দীর্ঘ ১৫ বছর অপেক্ষার পর দেশের মাটিতে অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলবে টাইগাররা। সবশেষ দেখায় নিজেদের মাঠে ধবলধোলাইয়ের তেতো স্বাদ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। এবার অবশ্য গল্পটা একেবারেই ভিন্ন হতে পারে। আগামী ৬ তারিখ ঢাকায় পা রাখবে সফরকারীরা।
মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ৯ই জুন শুরু হবে ৩ ম্যাচের রোমাঞ্চকর ওয়ানডে সিরিজ। এরপর চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে গড়াবে সমান সংখ্যক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। চারিদিকে যখন ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মাতামাতি, তখন এই সিরিজ কতটা দর্শক টানবে? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলা তো সবার আগে। তখন কি আর ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবা যাবে! হ্যাঁ, বিশ্বকাপের ম্যাচ ভক্তরা অবশ্যই দেখবে। তবে বাংলাদেশের ম্যাচ কেউ বাদ দিবে না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ফুটবল বিশ্বকাপের মাঝেও এই সিরিজ দারুণ জমজমাট হবে।’
পরিসংখ্যানের পাতায় অজিদের একচেটিয়া আধিপত্য। এখন পর্যন্ত ২২টি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ২ দল। এর মধ্যে ২০টি জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের একমাত্র জয়টি এসেছিল কার্ডিফে। আর ১টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ২৯৫ রান ও সর্বনিম্ন ৭৪ রান। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে লড়াইটা বেশ জমজমাট। ১১টি ম্যাচের মধ্যে ৭টিতে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে ঘরের মাঠে টাইগাররা অত্যন্ত সফল।
সর্বশেষ ৫ ম্যাচের সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেই সুখস্মৃতি এবারও বড় অনুপ্রেরণা। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে সর্বোচ্চ ২৫৭ রান সাকিব আল হাসানের, তিনি এখন আর বাংলাদেশের হয়ে খেলছেন না। এমন একটি দলের বিপক্ষে মাঠে নামাটা বড় সুযোগ। এ বিষয়ে সুমন বলেন, ‘তারা বেশ ভালো দল। পূর্ণশক্তির দল নিয়েই তারা আসছে, যা আমাদের জন্য ভালো। আমাদের জন্য এটি ভালো একটি প্রস্তুতি হবে। ভালো একটি চ্যালেঞ্জও বটে। আমার মনে হয়, এটি চমৎকার একটি সিরিজ হবে।’
ঘরের মাঠে স্পোর্টিং উইকেটে খেলাটাই বড় পরীক্ষা। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ফ্লাডলাইটের বদলে সব ম্যাচ হবে দিনের আলোয়। সকাল ১১টা ও দুপুর ২টায় শুরু হবে খেলাগুলো। জুনের প্রচণ্ড গরমে টানা ফিল্ডিং করা ক্রিকেটারদের স্ট্যামিনার চূড়ান্ত পরীক্ষা নেবে। লীগ ও আধুনিক ক্রিকেটের সাথে তাল মিলিয়ে পাওয়ার হিটিং বড় চ্যালেঞ্জ। মিডল অর্ডারে দ্রুত রান তোলা এবং টপ অর্ডারে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা জরুরি।
একই সঙ্গে অজি পেসারদের গতি ও জাম্পার স্পিন সামলাতে হবে। দলের ৬ ও ৭ নম্বর পজিশন নিয়ে বাইরে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। রহীম ও মোসাদ্দেকের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে হুট করে রদবদল হবে না। এ প্রসঙ্গে সুমন বলেন, ‘মানুষ তো আলোচনা করবেই। এসব আলোচনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। দল নির্বাচনের আগে কাকে অন্তর্ভুক্ত করব তা বলা যায় না। মানদণ্ড পূরণ করবেই এমন কোনো কথা নেই। নিশ্চিতভাবে দল গঠনের আগে আলোচনা চলবে। ওরকম আমূল পরিবর্তন বা এমন কিছু হবে না।’
এই সিরিজের মাসখানেক পরেই আবার বাংলাদেশ দল পাড়ি জমাবে অস্ট্রেলিয়ায়। দীর্ঘ ২৩ বছর পর সেখানে গিয়ে ডারউইন ও ম্যাকাইয়ে ২টি টেস্ট খেলবে টাইগাররা। তবে আপাতত সবার নজর ঘরের মাঠের এই সীমিত ওভারের সিরিজে। বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে স্পোর্টিং ট্র্যাকে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার দারুণ সুযোগ ব্যাটারদের সামনে। হোম অ্যাডভান্টেজ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারলে ইতিবাচক ফলাফল আসবে।
প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে দল। প্রত্যাশার পারদটাও অনেক উঁচুতে। আসন্ন সিরিজে দলের মূল লক্ষ্য এবং প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা নিয়ে সুমন বলেন, ‘আমরা যখনই কোনো সিরিজ খেলি, দলের কাছে আমাদের প্রত্যাশা একটাই থাকে। আর তা হলো ভালো খেলা এবং সিরিজ জেতা। প্রতিপক্ষ যেই হোক, আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে ভালো খেলে সিরিজ জয় করা। অস্ট্রেলিয়া বেশ শক্তিশালী একটি দল। র্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকালে দেখবেন, তারা টেস্টে ১ নম্বরে আছে এবং ওয়ানডেতেও শীর্ষ দুই দলের মধ্যেই থাকবে। তাই তাদের বিপক্ষে খেলা যেকোনো দলের জন্যই সর্বদা বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।’
