আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বিভিন্ন হাটে কোরবানির গরু-ছাগলের সরবরাহ বেড়েছে। তবে বাজারে পর্যাপ্ত পশু উঠলেও বেচাকেনা এখনো জমে ওঠেনি। এতে ন্যায্য দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় খামারি ও গরু-ছাগল পালনকারীরা। উপজেলার কোরবানির প্রধান হাট সালটিয়া বাজারে প্রচুর গরু-ছাগল উঠলেও ক্রেতার উপস্থিতি ও বিক্রি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও বাজারে এখনো কাক্সিক্ষত বেচাকেনা শুরু না হওয়ায় খামারিদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। সালটিয়া বাজারে আসা মো. ইমরান বলেন, কোরবানির ঈদের চাঁদ দেখার পর অনেকেই গরু কেনেন। সাধারণত চাঁদ দেখা ও ঈদের কাছাকাছি সময়েই গরু-ছাগলের বেচাকেনা বেশি হয়। অন্যদিকে চরআলগী ইউনিয়নের চরমছলন্দ মুক্তিযোদ্ধা মোড় এলাকার খামারি মো. মুরশিদ মিয়া জানান, বড় আশা নিয়ে তিনি কয়েক বছর ধরে একটি বড় ষাঁড় লালন-পালন করেছেন। গরুর খাবার, খৈল, ভুসি ও ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ অনেক বেড়েছে। তার ভাষায়, গরুটি বড় করতে গিয়ে হাজার হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন যদি ন্যায্য দামে বিক্রি করতে না পারি, তাহলে বড় ক্ষতির মুখে পড়বো। তিনি আরও বলেন, একদিকে পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং, অন্যদিকে চোরের ভয়Ñ সবমিলিয়ে অনেক রাত নির্ঘুম কাটাতে হয়।
বিদ্যুৎ না থাকলে গরমে গরুকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হয়। এত কষ্টের পরও বাজারে দাম না পেলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। স্থানীয় খামারিদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এ বছর গরু-ছাগলের সংখ্যা বেশি। তবে বাজারে বেচাকেনা এখনো আশানুরূপ নয়। বাড়ি বাড়ি কিছু পশু বিক্রি হলেও তা খুবই কম, আনুমানিক ৭০ শতাংশের মতো। ক্রেতারা শেষ মুহূর্তে বাজারে নামলে বিক্রি বাড়তে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। সালটিয়া বাজারের খামারি ও বিক্রেতারা জানান, পশুখাদ্য ও চিকিৎসা খরচ বেড়ে যাওয়ায় এ বছর গরু-ছাগলের উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। তাই তারা ন্যায্য দাম প্রত্যাশা করছেন। তবে ক্রেতাদের অনীহা ও বাজারে ধীরগতির কারণে ঈদের আগে কাক্সিক্ষত দাম পাওয়া নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন।
