যুক্তরাষ্ট্র রেলওয়ের ‘বিশ্বকাপ পরীক্ষা’

যুক্তরাষ্ট্র রেলওয়ের ‘বিশ্বকাপ পরীক্ষা’

ফন্ট সাইজ:

আগামী ১১ই জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের ঢল নামবে যুক্তরাষ্ট্রে। প্রায় ১ কোটি বিদেশি দর্শকের এই বিশাল চাপ সামলাতে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ গণপরিবহন, বিশেষ করে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রস্তুত কিনা তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ১১টি আয়োজক শহরের বিশাল ভৌগোলিক দূরত্ব ও রেল পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এখন মার্কিন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রুট বা ‘নর্থইস্ট করিডোরে’ (বস্টন, নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়া) বিশ্বকাপের ২১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই রুটে খেলা দেখতে যাওয়া দর্শকদের মূল ভরসা ‘অ্যামট্র্যাক’ ট্রেন। এই ট্রেনগুলোই হতে যাচ্ছে ফুটবল উন্মাদনার অন্যতম উপলক্ষ্য। ১৯শে জুন ফিলাডেলফিয়ায় ব্রাজিল ও হাইতির ম্যাচকে কেন্দ্র করে ট্রেনের বগিগুলো এখনই উৎসবের আমেজ পেতে শুরু করেছে।

নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে প্রায় আড়াই লাখ হাইতিয়ান প্রবাসী থাকায় ফুটবল উৎসবের আবহ তৈরি হবে। ফ্রান্সের ম্যাচগুলোকে ঘিরে ফরাসি সমর্থকেরাও পুরো ট্রেন নীল রঙে রাঙিয়ে তুলবেন বলে প্রতিবেদন করেছে দ্য গার্ডিয়ান। বিশ্বকাপ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেনের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। গত বছর রেকর্ড ৩ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেছেন। বিশ্বকাপ সামনে রেখে নর্থইস্ট করিডোরের অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ কোটি ডলার খরচ করেছে অ্যামট্র্যাক। নিউ জার্সির ১১৬ বছরের পুরোনো ‘পোর্টাল নর্থ ব্রিজ’ বদলে নতুন লাইন চালু করা হয়েছে এবং বহরে যুক্ত করা হয়েছে বেশি যাত্রী ধারণক্ষমতার নতুন ‘আসেলা’ ট্রেন। তবে আমেরিকার বাকি অংশের চিত্র ভিন্ন।

১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে টেক্সাসের দুই শহর ডালাস ও হিউস্টনের মধ্যে সরাসরি ট্রেনে সময় লাগত ৬ ঘণ্টা। ১৯৯৫ সালে সেই রুট বন্ধ হওয়ার পর বর্তমানে এই পথ পাড়ি দিতে ট্রেন সময় নেয় প্রায় ২৩ ঘণ্টা! আমেরিকায় রেলপথের মালিকানা বেসরকারি মালবাহী কোম্পানিগুলোর হাতে। তারা যাত্রীবাহী ট্রেনের চেয়ে নিজেদের মালামাল পরিবহনকে অগ্রাধিকার দেয়। ফলে চাইলেও সরকারি যাত্রীবাহী ট্রেন সময়মতো চালানো সম্ভব হয় না। এর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের খসড়া বাজেটে যাত্রীবাহী রেল খাতের ফান্ড এক ধাক্কায় ৮২ শতাংশ কাটার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলোর তুলনায় আমেরিকার রেল ব্যবস্থা অনেক পিছিয়ে। স্পেনে বার্সেলোনা থেকে মাদ্রিদ যেতে বুলেট ট্রেনে মাত্র ৩ ঘণ্টা লাগলেও, আমেরিকায় সমদূরত্বের পথ লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে সান হোসে যেতে সময় লেগে যায় প্রায় ৯ ঘণ্টা। চাহিদা বাড়ার কারণে বিশ্বকাপের সময় ট্রেনের টিকিটের দাম নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় বিমান বা গাড়ির চেয়ে ট্রেনকেই সাশ্রয়ী বিকল্প ভাবছেন দর্শকরা। কাতার কিংবা তার আগের বিশ্বকাপের মতো যাতায়াত সুবিধা এখানে না পাওয়া গেলেও বৈশ্বিক এ আসরকে ঘিরে কঠিন পরীক্ষা দেবে আমেরিকার রেলব্যবস্থা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন