ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের (ইপিএল) ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্সেনাল। ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্দ জিতে নেন ‘গোল্ডেন বুট’ পুরস্কার। নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর্তুগিজ জাদুকর ব্রুনো ফার্নান্দেজ ভেঙেছেন এসিস্টের রেকর্ড।
লীগে ৩৫ ম্যাচে ২৭ গোল করে টানা তৃতীয়বারের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘গোল্ডেন বুট’ নিজের করে নিলেন আর্লিং হালান্দ। এর মাধ্যমে প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল্ডেন বুট জয়ের তালিকায় কিংবদন্তি অ্যালান শিয়ারার এবং হ্যারি কেইনের দলে যোগ দেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে কেবল মোহাম্মদ সালাহ ও থিয়েরি হেনরির তাদের ওপরে আছেন।
মৌসুমের শুরুতে প্রথম ১৭ ম্যাচে ১৯ গোল করে রীতিমতো গোলমেশিনে পরিণত হন হালান্দ। তবে নতুন বছরের শুরুটা তার ভালো যায়নি। টানা সাত ম্যাচ খেলে গোল পান একটি। সেটিও এসেছে পেনাল্টি থেকে। মাঝপথে হালান্দ ফর্ম হারানোয় ম্যান সিটিও শিরোপার রেস থেকে পিছিয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগোর চেয়ে ৫ গোল বেশি নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকেই শেষ করেন হালান্দ।
সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় হন আঁতোয়ান সেমেনিয়ো। হালান্দ যদি হন গোলের রাজা, তবে ব্রুনো ফার্নান্দেজ এবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন নিখুঁত পাসের জাদুকর হিসেবে। এক মৌসুমে ২১টি অ্যাসিস্ট করে প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন ম্যান ইউ অধিনায়ক। এর মাধ্যমে তিনি থিয়েরি হেনরি এবং কেভিন ডি ব্রুইনের যৌথভাবে গড়া এক মৌসুমে ২০টি অ্যাসিস্টের কীর্তিকে ছাড়িয়ে গেলেন। ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৩-০ গোলে জয়ের ম্যাচে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন ব্রুনো।
ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে ফার্নান্দেসের কর্নার কিক থেকে, যেখানে হেড করে বল জালে জড়ান ডিফেন্ডার প্যাট্রিক দোর্গু। এর আগে ৩৭তম রাউন্ডে নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে ব্রায়ান এমবেউমোর গোলে সহায়তা করে ২০টি অ্যাসিস্টের মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। এই পারফরম্যান্সের কারণে ব্রুনোর হাতে ওঠে ‘প্রিমিয়ার লীগ প্লেয়ার অফ দ্য সিজন’ এবং ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফডব্লিউএ) ‘প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার’ পুরস্কার। এই কীর্তির পথে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে ম্যান ইউর হয়ে ডেভিড বেকহ্যামের গড়া ১৫টি অ্যাসিস্টের ক্লাব রেকর্ডও ভেঙে দেন ব্রুনো। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সাড়ে ছয় মৌসুম কাটিয়ে লীগে তার মোট অ্যাসিস্ট এখন ৭২টি।
