ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রায় ৩০-৩৫ বছর পর উদ্ধার হয়েছে সরকারি খাল। জেলা প্রশাসক ও ইউএনও’র হস্তক্ষেপে তিন গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এক মাস পানিবন্দি থাকা পরিবারগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আনন্দে মেতে উঠেছেন। গত রোববার রাতে খালের শেষ অংশ কেটে দেয়া মাত্র তীব্র গতিতে নিষ্কাশন হতে থাকে পানি। সোমবার সকাল থেকে খালের অবস্থা ঘুরে দেখেন ইউএনও ও চেয়ারম্যান। এখন আশপাশের দূষণমুক্ত করতে সকলে মিলে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সরজমিন অনুসন্ধান, ইউএনও, ইউপি চেয়ারম্যান দপ্তর সূত্র জানায়, গত মাসখানেক ধরে নানা নাটকীয়তা প্রতিকূলতা ঠেলাঠেলি ধাক্কাধাক্কি চলছে খাল উদ্ধার প্রক্রিয়াকে ঘিরে। তাই স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার ও ইউপি সদস্য মুশাহেদ মোল্লার নেতৃত্বে গত ৪-৫ দিন ধরে উদ্ধার প্রক্রিয়া চললেও তা মাঝেমধ্যে থেমে যাচ্ছে। ফলে পানিবন্দি পরিবারের সদস্যরা কখনো হাসছেন। কখনো কাঁদছেন। আবার সময় বুঝে মানববন্ধন কর্মসূচি এমনকি সড়ক অবেরোধও করছেন। সবসময় নিজসরাইল ছোট দেওয়ানপাড়া ও আলীনগর গ্রামের বাসিন্দারা পানি থেকে মুক্তির দাবিতে নানা কর্মসূচি দিচ্ছেন। প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ ও কষ্টের কথা জানিয়ে মুক্তির দাবি তুলছেন। দখলদার কবল থেকে গত ৪-৫ দিন ধরে ভরাট করা মাটি সরিয়ে খাল উদ্ধারের কাজ চলমান থাকলেও বাধায় থেমে যাচ্ছে। নিরুপায় হয়ে সড়কে নেমে আসছেন ওই তিন গ্রামের বাসিন্দারা।
অবশেষে গত রোববার সকালে জেলার সভায় জেলা প্রশাসকের ঘোষণায় এ কাজে আরও এগিয়ে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। ওইদিন রাতেই ইউএনও’র নির্দেশে সকল প্রতিবন্ধকতার মৌখিক সমাধান করে খালের অবশিষ্টাংশ বেকু দিয়ে কেটে দেন ইউপি চেয়ারম্যান। মুহূর্তের মধ্যে তীব্র গতিতে তিন গ্রামের পানি নামতে থাকে। ৩-৪ ঘণ্টা পানি নিষ্কাশনের পর ওই ৩ গ্রামের পানিবন্দি কয়েকশ’ পরিবার মুক্তি পায়। পানি নিষ্কাশনের পর পরিবেশ রক্ষায় দূষণ প্রতিরোধে পরিদর্শনে ইউএনও ও চেয়ারম্যান। তারা বলেন, সকলের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় সেটি হয়েছে।
মনে রাখতে হবে সকল কাজই প্রশাসন করে না। কিছু কাজ নিজেদেরও করতে হয়। সরাইল উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সম্পাদক ও জেলা বিএনপি’র বর্তমান কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি জনগণের সঙ্গে আছি। তাদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে আমি একমত। প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর আগে স্থানীয় একশ্রেণির প্রভাবশালীরা দখল করে নেন সরাইল হাসপাতাল মোড় থেকে সদরে প্রবেশের সড়কটির পাশের সরকারি খালটি (নিজসরাইল পর্যন্ত)।
পরবর্তীতে আরেকটি চক্র দখল করে নেন নিজসরাইল ব্রিজ থেকে অন্নদা স্কুল মোড় পর্যন্ত সরকারি খালটি দখল করে নিয়েছেন। সেখানে গড়ে তুলেছেন বিশাল আকারের অট্টালিকা মার্কেট ও বিপণী বিতান। ফলে সরাইল বিকাল বাজার ও আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশন সেখানেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দখলের কারণে বন্ধ হয়ে আছে দেওয়ান দীঘির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও। ফলে যেকোনো সময় তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বড়দেওয়ান পাড়ার।
