কুষ্টিয়ার কুমারখালী বাঁশগ্রামের খামারি মিরাজ খাঁ। মাদারীপুর সদর উপজেলার হবিগঞ্জ পশুর হাটে নিয়েছেন ২৭টি গবাদি পশু। এরমধ্য সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ, ১৮ মণ ওজনের হোলস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। ৪ বছর ধরে পরম যত্নে লালন-পালন করা ষাঁড় গরুটির দাম হাঁকাচ্ছেন ৮ লাখ টাকা। প্রতিনিয়তই ক্রেতারা ভিড় করছেন সেখানে। দামও উঠেছে সাড়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। এদিকে ছোট ছোট পিকআপ-এ করে খামার থেকে নিয়ে আসা গরু নামানো হচ্ছে হাটে। রাজাবাবু, রাজকুমার, মহব্বত, নবাব, শাহজাদাসহ বাহারী নামের গরুতে জেলার বৃহৎ এই হাট এখন কেনাবেচায় জমজমাট। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পশু কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারা।
জানা গেছে, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য থাকা-খাওয়ার সুযোগসহ সব ধরনের সুবিধা রেখেছেন হাট কর্তৃপক্ষ। এদিকে জেলার ৬৬ হাজার ৮শ’ ৮০ পশুর চাহিদার বিপরীতে ৭২ হাজার ৪৯৫ পশু প্রস্তুত রয়েছে। পশু বিক্রির স্থায়ী ও অস্থায়ী অর্ধশত হাটকে ঘিরে ১৮টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। অপরদিকে পুলিশ বলছে, গরু কিনতে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতার নিরাপত্তায় কাজ করছে বাহিনীর সদস্যরা। খামারি মিরাজ খাঁ বলেন, হবিগঞ্জ হাটে কয়েক হাজার পশু উঠেছে। তবে আমার ১৮ মণ ওজনের হোলস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয়। আশা করছি দু’-একদিনের মধ্যে গরুটি বিক্রি করা সম্ভব হবে। ৮ লাখ টাকা দাম চাইলেও ৬ লাখ বা তার কিছুটা বেশি হলেই বিক্রি করে দিবো।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বাসিন্দা ও ক্রেতা সাইফুল আলম রুবেল বলেন, হাটে ১০-১৫টি গরু দেখেছি। দরদাম করে একটি গরু কিনেছি। দাম নিয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। মাদারীপুর সদর উপজেলার হবিগঞ্জ পশুর হাটের সাধারণ সম্পাদক রুহুল মিয়া বলেন, জেলার অন্যতম হাট এটি। এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি হাট কমিটি ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শচীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, প্রতিটি হাটে খোঁজখবর রাখছে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস। কোনো প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, হাটে জাল টাকা কারবারিকে ধরতে ও মলম পার্টির তৎপরতা রোধে সাদা পোশাকেও কাজ করছে পুলিশ। এ ছাড়া আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে বাড়ানো হয়েছে টহল।
