বন্ধ চা বাগান চালু ও শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের দাবি চা-শ্রমিক সংঘের

বন্ধ চা বাগান চালু ও শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের দাবি চা-শ্রমিক সংঘের

ফন্ট সাইজ:

হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া চা বাগান চালু ও শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের দাবি জানিয়েছে চা-শ্রমিক সংঘ। ঈদুল আজহার আগ মুহূর্তে দেউন্দি টি কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনাধীন হবিগঞ্জ জেলা নয়াপাড়া, লালচাঁন, দেউন্দি এবং মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাধীন মৃর্ত্তিঙ্গা চা বাগানের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেয়ায় চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ করার দাবি জানান। সোমবার গণমাধ্যমে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ণ হাজরা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ২১শে মে সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ করার কথা থাকলেও দেউন্ডি কোম্পানির চারটি বাগানে কর্তৃপক্ষ আকস্মিকভাবে মজুরি পরিশোধ বন্ধ করে দেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করে মজুরি পরিশোধের দাবি জানায়। কিন্তু দেউন্দি কোম্পানির কর্তৃপক্ষ কৃষি ব্যাংক থেকে লোন না পাওয়া পর্যন্ত মজুরি পরিশোধ করা হবে না বলে জানালে ২৫শে মে সকাল থেকে চারটি বাগানের শ্রমিকরা একযোগে কর্মবিরতি শুরু করেন।

চা-শ্রমিক সংঘের নেতারা বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে দৈনিক মাত্র ১৮৭.৪৩ টাকা মজুরিতে এমনিতেই চা-শ্রমিকদের অবস্থা ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’। তার উপর সারা সপ্তাহ কাজ করে মজুরি না পেয়ে শ্রমিকদের যে দুর্বিষহ অবস্থায় পড়তে হয়েছে তা ভাষায় বর্ণনাতীত। তা ছাড়াও ২০২২ সালের এরিয়ার বকেয়া ৪,০০০ টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। দেউন্দি কোম্পানির শ্রমিকরা অভিযোগ করেন তাদের পিএফ চাঁদা নিয়মিত প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা করা হয় না, চা-শ্রমিকদের ন্যূনতম চিকিৎসাও এখন মিলছে না। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের বসতঘর মেরামত না করায় শ্রমিকদের কাজের সময় সেকশনে যেমন ঝড় বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। আবার ঘরে এসেও বৃষ্টির পানিতে ভিজতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা তাদের সমস্যা সমাধানের দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। চা-শ্রমিক সংঘের নেতারা অবিলম্বে দেউন্দি টি কোম্পানি লিমিটেডের চারটি চা বাগানের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি ও বকেয়া এরিয়ার পরিশোধসহ শ্রমিকদের সমস্যার যৌক্তিক সমাধান করে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসন করার জন্য বাগান কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।




ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন