ফেনীতে গ্যাসের সন্ধানে বাপেক্স টিম

ফেনীতে গ্যাসের সন্ধানে বাপেক্স টিম

ফন্ট সাইজ:

ফেনীর দাগনভূঞায় নতুন নলকূপ বসানোর পর হঠাৎ গ্যাস উদ্গীরণ শুরু হয়। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে জনমনে কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। জানাজানি হলে আশপাশের শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। বিষয়টি প্রশাসনের কানে পৌঁছালে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন পাঠায়। গত রোববার বিকালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) লিমিটেডের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে।

এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যার পর সিন্দুরপুর ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামে মালেক কন্ট্রাক্টর বাড়ির ব্যবসায়ী হাসানের নতুন বসানো নলকূপে গ্যাস উদ্গীরণ হলে স্থানীয়রা আগুন দিলে তা আর নিভেনি। গৃহকর্তা মো. হাসান জানান, তিনি ঘরের পাশে ১১০ ফুট গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। কাজ শেষ হলে পানির জন্য নলকূপের হাতলে চাপ দিলে প্রবল বেগে পানি ও উপরের দিকে গ্যাস উদ্গীরণ হতে দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ এ অবস্থা চলতে থাকলে আশপাশের শত শত কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমায়। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানান, তিনি তাৎক্ষণিক ফেনী ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে নলকূপটি সিলগালা করে দেন। পরে বিষয়টি বাপেক্স কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। নোয়াখালীর শাহজাদপুর গ্যাস ফিল্ডের সহকারী ব্যবস্থাপক সতীশ চন্দ্র বর্মন জানান, বাপেক্স কর্তৃপক্ষের নির্দেশনামতে তিনি একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিকভাবে মাল্টিগ্যাস মনিটর দিয়ে এখনকার গ্যাসের পরিমাপ করেন। মনিটর রিডিং অনুযায়ী, নলকূপে অক্সিজেন পরিমাণ ৩২ শতাংশ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া, ক্ষতিকর গ্যাসের (হাইড্রোজেন সালফাইড) উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে কিছু পরিমাণ দাহ্য গ্যাস (মিথেন গ্যাস) রয়েছে। নলকূপটি মাত্র ১১০ ফুট খনন করার পর এ গ্যাস উদ্গীরণ হয়। তবে বাপেক্সের প্রাথমিক পরীক্ষায় মনিটর কমিটি মনে করেন মাটির নিচে পকেট গ্যাস থেকে উদগীরণ হচ্ছে। এ ছাড়া, অন্য কোনো প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের ছিদ্র পথে এই গ্যাস আসতে পারে বলেও তারা ধারণা করছেন। পরে ভূ-তাত্ত্বিক টিম এসে মাটির নিচে পরীক্ষা করে সঠিক অবস্থা নির্ণয় করবেন বলে কমিটির সদস্যরা জানান। আপাতত জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে নলকূপের উপরি অংশ খুলে ২০ ফুট পিভিসি পাইপ সংযোগ করে গ্যাস নিঃসরণ করার ব্যবস্থা করেছেন তারা। সোমবার বাপেক্সের ভূ-তাত্ত্বিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সার্ভে করে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ এবং কূপের সম্ভাব্যতা যাচাই করবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল জানান, বাপেক্স টিমের সঙ্গে তিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন