মৌলভীবাজারে খামারের গরু আকৃষ্ট করছে ক্রেতাদের

মৌলভীবাজারে খামারের গরু আকৃষ্ট করছে ক্রেতাদের

ফন্ট সাইজ:

প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশু কেনাবেচার হাট। ঈদের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও জেলার প্রতিটি হাটে এখন গবাদিপশুর আনাগোনা আর ক্রয়-বিক্রয়ে ভিড় লক্ষণীয়। এখন পর্যন্ত গবাদিপশুর দর নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতারা সন্তুষ্ট। তবে ক্রেতাদের দাবি বিদেশি গবাদিপশু না আসলে এই সুযোগে খামারিরা যাতে অত্যধিক দাম না বাড়ান।

এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির জন্য ৭৪ হাজার ৫৮৪টি গবাদিপশু প্রস্তুত মৌলভীবাজারের ৭টি উপজেলার ছোট-বড় ৬ হাজার ২২৫টি খামারে। স্থানীয় এসকল খামারে প্রাকৃতিক খাদ্যে বেড়ে উঠা নানা রংয়ের মোটাতাজা দৃষ্টিনন্দন গরু, মহিষ ও ছাগল আকৃষ্ট করছে ক্রেতাদের। ভালো দামের আশায় ও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে শেষ মুহূর্তেও খামারিরা এসব পশু নিবিড়ভাবে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক খামারে অনলাইনে অগ্রিম পশু বিক্রির বুকিং এবং ওজন মেশিন বসিয়ে পশু বিক্রির ব্যবস্থা রেখেছেন।

খামারিরা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর খামারিরা বেশ ভালোভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছেন। খামারে ১৬০ কেজি থেকে প্রায় ৮০০ কেজি ওজনের কোরবানির পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পশুর আকার ভেদে খামারিরা মূল্য ওজনে প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করে বিক্রি করছেন। এ ছাড়াও বড় গরুগুলো এককালীন দরেও বিক্রি করছেন। খামারিরা জানান বাজারে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়া ও শ্রমিক মজুরি কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন তারা। এ বছর ভালো দাম পাওয়া নিয়ে খামারিরা আশাবাদী হলেও রয়েছে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। তারা ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে যাতে শেষ সময়েও চোরাই পথে গরু না আসে সে বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছেন। জেলার অন্যতম গরুর খামার মালিকপুর এগ্রো ফার্র্মের স্বত্বাধিকারী সুহাদ আহমদ, নাঈম অ্যান্ড ঈসমাইল ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী সরোয়ার আহমদ টিপু ও মমরুজপুর আসিয়া এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. রাফাত চৌধুরীসহ খামারিরা জানান, তারা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন করে এ বছর কোরবানির জন্য উপযুক্ত করেছেন। খামারগুলোতে খাওয়ানো হচ্ছে ধানের কুড়া, খৈল, গমের ভুসি ও সবুজ ঘাস ইত্যাদি। এ সকল তরুণ উদ্যোক্তা খামারিরা মনে করেন সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে উঠবে। নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে এবং সারা বছর মাংসের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে খামারগুলো। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায় বাজারে সুস্থ পশু বিক্রির জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগ প্রচারণার পাশাপাশি জেলায় ২০টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। তারা জেলার ২১টি স্থায়ী হাটসহ অন্যান্য ২৬টি অস্থায়ী হাটেও তাদের মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার রাখছেন। জেলার ৪৭টি বাজারে গরু, ছাগল, ভেড়াসহ নানা জাতের হাঁস ও মোরগ বিক্রি হলেও ব্যতিক্রম জেলার কুলাউড়া উপজেলার এবং সিলেট বিভাগের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী গবাদিপশুর হাট ব্রাহ্মণবাজার ও কমলগঞ্জের আদমপুর বাজার। ওই বাজার দু’টিতে অন্যান্য গবাদিপশুর সঙ্গে মহিষও বিক্রি হয়। ব্রাহ্মণবাজারে গবাদিপশুর হাট বসে সপ্তাহে প্রতি সোমবার আর আদমপুর বাজার শুক্রবার। তবে কোরবানি উপলক্ষে বাজার চলে একটানা ঈদের দিন পর্যন্ত। জেলার খামারিরা জানান, এ বছর বড় গরু বা মহিষের চেয়ে কোরবানি উপযুক্ত ছোট ও মধ্যম গরু ও মহিষের চাহিদা অনেক বেশি। চাহিদা অনুযায়ী জোগান না থাকায় ছোট ও মধ্যম সাইজের গরু-মহিষের দামও অনেক বেশি। বড় গরুর জোগান বেশি হলেও ক্রেতা তুলনামূলক কম। স্থানীয়ভাবে মহিষের মাংসের তেমন চাহিদা না থাকায় চট্টগ্রামসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে ওই বাজার দু’টিতে ক্রেতারা তা ক্রয় করতে আসেন। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে এ বছর ঈদুল আজহায় জেলায় ৭৪ হাজার ৫৮৪টি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় ৩০ হাজার ৮০৫টি, বলদ ৩ হাজার ৬২৪টি, গাভী ৫ হাজার ৫২টি, মহিষ ১ হাজার ৪৪৬টি, ছাগল ৩০ হাজার ৮২২টি, ভেড়া ২ হাজার ৮৩৫টি। জেলায় চাহিদা রয়েছে ৭১ হাজার ৭৭২টি পশুর আর উদ্বৃত্ত রয়েছে ২ হাজার ৮১২টি। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানান, সীমান্ত দিয়ে পার্শ^বর্তী দেশের গরু দেশে না আসলে খামারিরা লাভবান হবেন। তরুণ উদ্যোক্তা ও খামারির সংখ্যাও বাড়বে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন