দখলদারদের কবলে কাটিংগা বিল

দখলদারদের কবলে কাটিংগা বিল

ফন্ট সাইজ:

একসময় মাছ আর অতিথি পাখির অভয়ারণ্য ছিল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া গ্রামের কাটিংগা বিল। স্থানীয়দের কোলাহল, জেলেদের ব্যস্ততা আর পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকতো পুরো এলাকা। অথচ এখন সেই বিল দখল আর ভরাটের কবলে পড়ে হারাচ্ছে তার অস্তিত্ব। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা বিলের বিভিন্ন অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ ও ভরাট করছেন। ফলে প্রাকৃতিক জলাধার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। আন্দিউড়া মৌজার ৫৩৯৮ ও ৫৪১১ দাগে অবস্থিত কাটিংগা বিলের আয়তন প্রায় ১০ থেকে ১৫ একর। বিভিন্ন ছড়া ও জলধারার সঙ্গে সংযুক্ত বিলটি শেষ পর্যন্ত গিয়ে মিশেছে তিতাস নদীতে।

একসময় এখানে প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। আশপাশের গ্রামের মানুষ অবসর সময় কাটাতে ও মাছ ধরতে ভিড় করতেন বিলে। স্থানীয়রা জানান, পাশের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি খাবারের সন্ধানে এই বিলে আসতো। শীতকালে অতিথি পাখির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা হয়ে উঠতো প্রাণবন্ত। কিন্তু এখন সেই চিত্র আর নেই। কাটিংগা বিল রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, এই বিল আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। কিন্তু এখন দখলদারদের কারণে বিলটি ধ্বংসের মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একদিন হয়তো বিলটির অস্তিত্বই থাকবে না। পাখিপ্রেমী সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলের মতো কাটিংগা বিলকেও পরিবেশ ও পর্যটনবান্ধব জলাভূমি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম বলেন, জলাভূমি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিল নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, শুধু আশ্বাসে কি রক্ষা পাবে কাটিংগা বিল? তাদের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে বিল সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন