জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, আলোচনা-পর্যালোচনা ততই দানা বাঁধছে। কে হবেন সংসদ সদস্য, কারাইবা গঠন করবে সরকার। এ নিয়ে সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গার দু’টি আসনে চায়ের দোকানগুলোতেও ভোটের চিত্র নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। সাধারণ ভোটারদের আলোচনার বিষয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার দু’টি আসনে এবার প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই হবে সমানে সমান। এ জেলার দু’টি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে ভাবমূর্তির লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ ভোটাররা এবার যোগ্য প্রার্থীকেই নির্বাচিত করবেন বলে তারা বলছেন। চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২ আসন বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে দু’টি আসনেই। বর্তমানে বিএনপি’র শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াত। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে এবারের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিন প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীকে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেল ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সহ-সভাপতি জহুরুল ইসলাম আজিজী। বিএনপি প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, এবারের নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা। আমরা শুধু নিজেদের পক্ষে ভোট চাইছি না, সব দলের এমনকি নির্দলীয় ভোটারদেরও কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ভোট কাকে দেবেন সেটা মুখ্য নয়, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ৭০-৮০ শতাংশ ভোট পড়লে সেটাই হবে বড় সাফল্য। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী মাসুদ পারভেজ বলেন, দলমত নির্বিশেষে আমরা সাধারণ ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। চুয়াডাঙ্গাকে একটি রোল মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ মানুষের উন্নয়নে কাজ করার বার্তা দিচ্ছি। প্রায় একই চিত্র চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের। এখানে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছেন বিজিএমইএ’র সভাপতি, দলের কেন্দ্রীয় উপ-কোষাধ্যক্ষ ও জেলা সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিন ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সভাপতি হাসানুজ্জামান সজীব। বিএনপি’র মাহমুদ হাসান খান জানান, নির্বাচিত হলে এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান, খাদ্য হিমাগার, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন তিনি। জামায়াতের রুহুল আমিন বলেন, কৃষিনির্ভর এ জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, স্থলবন্দর বাস্তবায়ন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার উন্নয়ন, লুটপাটের রাজনীতি বন্ধ, চুয়াডাঙ্গা-কালীগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, আধুনিকায়নের মাধ্যমে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির দুর্নীতি বন্ধ, পতিত জমি প্রকৃত হকদারদের প্রদান, দর্শনাকে উপজেলায় উন্নীতকরণ, একটি সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাসহ সার্বিক বিষয়ে কাজ করতে চাই।
চুয়াডাঙ্গার দু’টি আসনে বিএনপি-জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
