ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সির গল্পে যোগ হয়েছে এক নতুন আবেগঘন অধ্যায়। চোটের অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেলেসাও দলে জায়গা করেছেন নেইমার জুনিয়র। কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে বিশ্বজয়ের মহারণে নামার এই সুযোগ এক ফুটবল জাদুকরের ফিনিক্স পাখির মতো পুনরুত্থানের গল্পের মতোই। সম্প্রতি সাও পাওলোর এক জমকালো অনুষ্ঠানে খোদ নেইমার উন্মোচন করেছেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অন্তরালের গল্প।
চূড়ান্ত স্কোয়াডে নিজের নাম দেখে আবেগের যে বাঁধ ভেঙেছিলো, তা সামলাতে পারেননি সান্তোসের এই মহাতারকা। পাশে যখন স্ত্রী ব্রুনা বিয়াঙ্কার্দি ও সন্তানরা গভীর ঘুমে মগ্ন, নেইমার তখন একাকী লড়ছিলেন এক অদ্ভুত কান্নার সুখের সঙ্গে।
সেই ঐতিহাসিক ও নির্ঘুম রাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ৩৪ বছর বয়সী নেইমার বলেন, ‘আমি সেদিন সকাল সাড়ে ৬টা বা ৭টার দিকে ঘুমাতে যাই। সারাটা রাত আমি কেবল একের পর এক ভিডিও দেখি এবং চোখের জল ফেলি। বিছানায় আমার পাশে স্ত্রী আর কন্যারা ঘুমাচ্ছে। ওরা ঘুমে বিভোর, আর আমি প্রতিটি ভিডিও দেখছি আর কাঁদছি। বিশ্বাস করুন, পথটা একেবারেই সহজ ছিল না।’ বিগত কয়েক বছরে চোটের আঘাত আর মাঠের বাইরের সমালোচনা নেইমারকে প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত করেছে। তবে সব বাধা পেরিয়ে ওই হলুদ জার্সি গায়ে জড়ানোর রোমাঞ্চ তার কাছে সব কষ্টের শ্রেষ্ঠ উপশম। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সাবেক বার্সেলোনা ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) ফরোয়ার্ড আরও বলেন, ‘কাজটা ভীষণ কঠিন ছিলো, ভীষণ বেদনার ছিলো। তবে, দিনশেষে এই প্রাপ্তি সব কষ্টকে সার্থক করেছে। এই ভালোবাসা, এই আবেগ আর একজন ব্রাজিলিয়ান হিসেবে কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতির কাছে সব কষ্টই মধুর মনে হয়।’
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেইমার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার। ফুটবলপ্রেমী কোটি ব্রাজিল ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সমর্থন ও ভালোবাসার জন্য সমগ্র ব্রাজিলকে ধন্যবাদ। এই দিনটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা দিন হয়ে থাকবে।’
