প্রধান আসামি সোহেল ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

পল্লবীতে রামিসা হত্যা

প্রধান আসামি সোহেল ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

ফন্ট সাইজ:

শিশু রামিসা হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান।

একইসঙ্গে আগামী ১লা জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এদিকে, গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক অনুষ্ঠানে বলেন, রামিসা হত্যা মামলার বিচারের জন্য ঈদের ছুটিতেও সংশ্লিষ্ট আদালত খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ থেকে সাতদিনের মধ্যেই বিচার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপগুলো শেষ হতে পারে বলেও তিনি জানান।

অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটিকে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। ডিএনএ প্রতিবেদনে সোহেল রানার সম্পৃক্ততার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর মৃত্যুর সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ শেষে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে। পরে ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে পালিয়ে যান তিনি। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ওই সময় বাসাতেই ছিলেন।

এদিকে, রামিসা হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের জারি করা আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

গত ১৯শে মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে পুলিশ। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সোহেল অপরাধ স্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, রামিসার মতো চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে হাইকোর্ট বিভাগে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, শিশু রামিসার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনায় গোটা জাতি অসম্মানিত। আইনজীবী হিসেবেও আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা হলো, এ ধরনের মামলার বিচার বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। তাই দ্রুত বিচারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। বিচারক সংকটের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, আপিল বিভাগে বর্তমানে মাত্র একটি বেঞ্চ দিয়ে কাজ চলছে। ফলে বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। মানুষের বিচারপ্রাপ্তি বিলম্বিত হলে তা দুর্নীতিরও জন্ম দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন