টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগের আসরগুলোর দিকে তাকালে হতাশার চিত্রই ফুটে ওঠে। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অতীত পরিসংখ্যান মোটেও সুখকর নয়। ৬ আসরে ২৫ ম্যাচ খেলে জয় এসেছে সাকুল্যে ৩টিতে। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে নতুন গল্প লিখতে চায় বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও ইংল্যান্ডে মূল আসর সামনে রেখে গতকাল ঢাকা ছাড়ে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। দেশ ছাড়ার আগে বড় স্বপ্নের কথা শোনান টাইগ্রেস অধিনায়ক। ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এবার অন্তত ২ ম্যাচ নিশ্চিতভাবে জিততে চায় দল। সুযোগ থাকছে ৩ জয়েরও।
বর্তমান দল ও পারফরমারদের ওপর অধিনায়কের অগাধ আস্থা। আগের মতো কেবল কয়েকজনের ওপর নির্ভরতা নেই, বরং বেশ কয়েকজন ম্যাচ উইনার তৈরি হয়েছে। ক্রিকেটারদের ভেতরেও তৈরি হয়েছে তীব্র জয়ের ক্ষুধা। সংবাদ সম্মেলনে জ্যোতি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে এখন অনেক পারফরমার যোগ হয়েছে। আগে কয়েকজনের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন অনেকেই এগিয়ে আসছে। ক্রিকেটারদের ভেতর সেই ক্ষুধাটা আছে যে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আমরা শুধু ভালো খেলতেই নয়, ম্যাচ জিততেও চাই।’
অন্যদিকে জয়ের জন্য নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষও ঠিক করে রেখেছে ম্যানেজমেন্ট। তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরেই মূল ছক কষছেন তারা। এ ছাড়া ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর অতীত অভিজ্ঞতা আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে ড্রেসিংরুমে। অতীতে আইসিসি টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও এবার সেই সুযোগ নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের পর সামনে ত্রিদেশীয় সিরিজের ৪ ম্যাচ ও ২টি অফিসিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে টাইগ্রেসরা। সবমিলিয়ে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে তারা। এই প্রস্তুতি নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত জ্যোতি বলেন, ‘প্রত্যেকবার টুর্নামেন্টের সময় আমরা আন্তর্জাতিক সিরিজ বা ওরকম প্রস্তুতি পেতাম না একদমই। এটা আমাদের একটা অভিযোগ ছিল। এবার আমাদের সেটা নেই।
আমাদের জন্য এর চেয়ে বড় ও আদর্শ প্রস্তুতি আর হতে পারে না।’ দলের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি অধিনায়কের নিজস্ব ফর্ম। কিছুদিন ধরে চেনা ছন্দে নেই তিনি। মিডল অর্ডারে তার ফর্মহীনতা ভোগাচ্ছে দলকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাওয়ার প্লেতে দ্রুত উইকেট হারানোর পর স্ট্রাইকরেট ধরে রাখার সংগ্রাম। এই সমস্যাগুলো সমাধানে মরিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে নিজের ছন্দে ফেরার বিষয়ে বেশ আশাবাদী অধিনায়ক। বিশ্বকাপে ভালো পারফর্ম করলে নারী ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগগুলোতেও দেশের মেয়েদের কদর বাড়বে বলে বিশ্বাস তার। নিজের ব্যাটিং নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘গত দুই বা তিন বছর ধরে যেভাবে ব্যাট করে আসছি, গত কিছুদিনে হয়তোবা পারিনি।
তবে নিজের ওপর আমার বিশ্বাস আছে। সামনে যে ত্রিদেশীয় সিরিজ আছে, চেষ্টা করবো সেখানে নিজেকে আগের মতো করে দেখতে।’ বিশ্বমঞ্চে প্রবল পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও এবার ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। মাঠে নামার আগে প্রতিপক্ষের নাম ও অতীত পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবতে নারাজ তারা। নির্দিষ্ট দিনে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে যেকোনো দলকেই হারানো সম্ভব বলে মনে করে পুরো স্কোয়াড। এ ছাড়া লর্ডসের মতো ঐতিহাসিক মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে বাড়তি উন্মাদনা কাজ করছে ক্রিকেটারদের মাঝে।
নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে ঐতিহাসিক এই মাঠে স্মরণীয় কিছু করার চূড়ান্ত লক্ষ্য তাদের। শক্তিশালী অজিদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে হুঙ্কারের সুর জ্যোতির কণ্ঠে, ‘আমরা নির্দিষ্ট কোনো প্লেয়ারকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি না। আমরা তাদের বিপক্ষে খেলতে নামছি এবং অবশ্যই আমরা আমাদের সেরা আউটপুট দেয়ার চেষ্টা করবো। দিন শেষে খেলা সমান সমান। যারা সেদিন ভালো পারফর্ম করতে পারবে, তারাই ম্যাচ জিতবে।’
