বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু হতে বেশি দিন বাকি নেই। এর আগে এক দুঃসংবাদ শোনা গেল। বিশ্বকাপের সময় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন শহরের যানজটপূর্ণ রাস্তাগুলোতে গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেড়ে জায়গার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। হিউস্টনের বাসিন্দাদের জন্য জারি করা হয়েছে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপের সময় এ শহরে ৫ লাখ ফুটবলপ্রেমীর সমাগম ঘটতে পারে। এমন প্রতিবেদন করেছে হিউস্টন ক্রনিকল নামক একটি ম্যাগাজিন।
এবারের বিশ্বকাপে হিউস্টন স্টেডিয়ামে নকআউট পর্বের দুই ম্যাচসহ মোট ৭টি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। জার্মানি, কুরাসাও, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, উজবেকিস্তান, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরবের মাঠে খেলবে। তবে লড়াই দেখার আগে যাত্রীদের পোহাতে হবে যানজটের ভোগান্তি। সেই কথা বিবেচনা করে হিউস্টন ট্রানস্টারের মুখপাত্র অ্যাঞ্জেলিক মেয়ার্স চালকদের আগেভাগেই সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘যানবাহন চালকদের এবার রাস্তায় বের হওয়ার সময় অবশ্যই বাড়তি ধৈর্য নিয়ে বের হতে হবে। এই সময়ে হিউস্টনে কখন এবং কীভাবে চলাচল করবেন, সেই পরিকল্পনা প্রয়োজনে এখনই বদলে নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
পরিবহন গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, এনআরজি স্টেডিয়াম ও ডাউনটাউনের প্রধান সড়কগুলোতে ট্রাফিকের চাপ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। টেক্সাস পরিবহন বিভাগ এ কারণে দর্শকদের নিজস্ব গাড়ি এড়িয়ে পাবলিক ট্রানজিট বা রাইডশেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। হিউস্টন শহরে এখন হাইওয়ে নির্মাণকাজ চলছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন শহরে যেন বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য ইন্টারস্টেট ৪৫-এর পুনঃনির্মাণ কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দর্শকের যাতায়াতের বিষয় বিবেচনা করে ১লা জুন থেকে ১লা আগস্ট পর্যন্ত ডাউনটাউনের বেশ কিছু অংশের কাজ বন্ধ থাকবে। যানজট এড়াতে পরিবহন কর্মকর্তারা হিউস্টনের বাসিন্দাদের নিজস্ব গাড়ি গ্যারেজে রেখে বিকল্প বাহন ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। এই সময়ে ট্রেন ও বাস নেটওয়ার্কের সেবার পরিধি এবং সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ বিশেষ ম্যাচের দিনে ২৪ ঘণ্টাই চলবে মেট্রোরেল।
অন্যান্য শহরগুলো বড় ইভেন্টে টিকিটের দাম বাড়ালেও হিউস্টন মেট্রো তাদের বাস ও লাইট রেলের ভাড়া মাত্র ১.২৫ ডলার অপরিবর্তিত রাখছে। টোল রোডগুলোতেও গাড়ির চাপ থাকবে। এ নিয়ে হ্যারিস কাউন্টি টোল রোড অথরিটির মুখপাত্র ট্রেসি জ্যাকসন বলেন, ‘খেলা শুরু হওয়ার আগের কয়েক ঘণ্টায় ট্রাফিক পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ রূপ নিতে পারে। আমাদের টোল রোড ব্যবস্থা যেখানে অন্যান্য আঞ্চলিক ফ্রিল্যান্স হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, ঠিক সেই সংযোগস্থলগুলোতেই মূলত জ্যামের তীব্রতা দেখা যাবে।’
হিউস্টনে থাকছে স্বয়ংক্রিয় বা চালকবিহীন গাড়ি ‘ওয়েমো’। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে কোম্পানিটি তাদের সেলফ-ড্রাইভিং গাড়ির সেবা ডাউনটাউন ও এনআরজি স্টেডিয়ামসহ হিউস্টনের প্রধান প্রধান অঞ্চলে বিস্তৃত করেছে। অন্যদিকে, দর্শকদের বার, রেস্তরাঁ ও ট্রানজিট স্টেশনগুলোর মধ্যে যাতায়াত সহজ করতে রঙিন হাঁটার পথ সংবলিত ‘ভিয়া ফুটবল’ নামক একটি বিশেষ রুট তৈরি করা হয়েছে। টেক্সাসের তীব্র গরমের কথা চিন্তা করে এই হাঁটার পথের পাশে পাশে তৈরি করা হচ্ছে ‘ওয়েসিস জোন’ বা মরুদ্যান।
এই জোনগুলোতে দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে এয়ার কন্ডিশনড কুলিং এরিয়া, বিশুদ্ধ পানি, খাবার, বসার জায়গা এবং ওয়াশরুম ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। সড়কে কোনো দুর্ঘটনা বা গাড়ি বিকল হলে তা দ্রুত সরাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং জরুরি উদ্ধারকারী দলের উপস্থিতি দ্বিগুণ করা হচ্ছে। হিউস্টন ট্রানস্টারের মুখপাত্র অ্যাঞ্জেলিক মেয়ার্স বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে বৃহত্তর হিউস্টন এলাকায় একটি বড় বৈশ্বিক ইভেন্ট ঘটতে যাচ্ছে, আর এর হাত ধরে আমাদের সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে বাড়তি যানজট আসবেই। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা কাম্য।’
