বয়স ৩৯ ছুঁয়েছে মাত্র দুইদিন আগে। একের পর এক চোটে ধকল সইছে শরীর। গত আট মাস কোর্টের চেয়ে বেশি সময় কেটেছে পুনর্বাসনে। ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন মোটে একটি। তা সত্ত্বেও আত্মবিশ্বাসে বিন্দুমাত্র চির ধরেনি নোভাক জোকোভিচের। গতকাল প্যারিসে শুরু হওয়া রোলঁ গ্যারোসের মঞ্চে রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের দারুণ সুযোগ দেখছেন সার্বিয়ান তারকা।
চোটের কারণে এবারের আসর থেকে ছিটকে গেছেন দুইবারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজ। স্প্যানিশ এই তারকার অনুপস্থিতি জোকোভিচের পথ কিছুটা সহজ হওয়ার কথা। জোকোভিচ নিজে অবশ্য তেমনটা ভাবছেন না। তিনি বলেন, ‘কার্লোস টুর্নামেন্টে থাকা বা না থাকা নিয়ে আমি ভাবছি না। আমি যদি ফিট থাকি এবং নিজের সতেজতা ধরে রাখতে পারি, তবে যেকোনো মঞ্চেই আমার জেতার খুব ভালো সুযোগ থাকে।’ প্যারিসে জোকোভিচের অতীত রেকর্ড অবশ্য অবিশ্বাস্য। ১০১ জয়ের বিপরীতে হার মাত্র ১৭টি। দীর্ঘ বিরতির পর সরাসরি বড় টুর্নামেন্টে নামাটা কঠিন হলেও নিজের প্রতি বিশ্বাস আছে জোকোভিচের। তিনি মনে করেন, কোর্টে নামলে তার বিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়।
আলকারাজ না থাকলেও জোকোভিচের সামনে এবার সবচেয়ে বড় বাধা ইতালির ইয়ানিক সিনার। এ মৌসুমে টানা ২৯ ম্যাচ জিতে উড়ছেন এই বিশ্বসেরা তারকা।
জিতেছেন বছরের প্রথম পাঁচটি এটিপি মাস্টার্স ১০০০ শিরোপাও। ফাইনালের মঞ্চে জোকোভিচের দেখা হতে পারে এই সিনারের সঙ্গে। সিনারকে নিয়ে জোকোভিচ বলেন, ‘সিনার সম্ভবত এই মুহূর্তে তার ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছে। আলকারাজ না থাকায় তার শিরোপা জেতার সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেছে। আমরা সবাই এখানে এসেছি তাকে রুখে দিতে এবং নিজেরা ট্রফি জিততে।’ শৈশব ও যৌবনের সীমানা পেরিয়ে ৩৯ বছর বয়সেও টেনিস কোর্টে নামছেন জোকোভিচ। যেখানে সমসাময়িক অনেকেই অবসরের ছায়া খুঁজছেন, সেখানে জোকোভিচ নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নতুন গল্প লিখছেন। টেনিস ইতিহাসের সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক প্যারিসের কোর্টে নেমেছেন ২৫ নম্বর মুকুটের খোঁজে।
