দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে নামার অপেক্ষায় ডিআর কঙ্গো। তবে মূল আসর শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এক অদৃশ্য প্রতিপক্ষের মুখোমুখি আফ্রিকার দেশটি। ইবোলা আশঙ্কার মধ্যে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঙ্গোকে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেয়া হয়েছে, ২১ দিন সম্পূর্ণ আইসোলেশনে না থাকলে মার্কিন মুলুকে প্রবেশের অনুমতি মিলবে না তাদের। তবে কঙ্গো ফুটবল কর্তৃপক্ষ এই হুমকিতে তাদের পূর্বনির্ধারিত প্রস্তুতি সূচি এক চুলও বদলাতে নারাজ। বর্তমানে মধ্য আফ্রিকায় ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ ভ্যারিয়েন্ট মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এটিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যেখানে ইতিমধ্যে প্রায় ৭৫০ জন আক্রান্ত এবং ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এমন অবস্থায় হোয়াইট হাউস টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি কড়া ভাষায় ইএসপিএনে বলেন, ‘আমরা কঙ্গোকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, ১১ই জুন হিউস্টনে পা রাখার আগে তাদের ২১ দিনের জৈব-সুরক্ষা বলয় কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। কঙ্গো সরকারকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই নিয়ম না মানলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের অধিকার হারাতে পারে। এর চেয়ে পরিষ্কার বার্তা আর হতে পারে না।’ তবে কঙ্গো শিবিরের যুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দলের কোনো খেলোয়াড়ই বর্তমানে কঙ্গোতে অবস্থান করছেন না। কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রেসহ দলের প্রায় সব তারকা ফুটবলারই ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। বর্তমানে তারা বেলজিয়ামে অবস্থান করছেন। কঙ্গো দলের এক মুখপাত্র আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
দলের কোনো খেলোয়াড়ই ডিআর কঙ্গো থেকে আসেননি। আমরা আমাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোবো।’
আগামী ৩রা জুন বেলজিয়ামের লিজ শহরে ডেনমার্ক এবং ৯ই জুন স্পেনের কাদিজে চিলির বিরুদ্ধে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে কঙ্গোর। তবে ঘরের মাঠে যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছিল, তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। আগামী সপ্তাহে রাজধানী কিনশাসায় দেশবাসীর কাছ থেকে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা নেয়ার কথা ছিল কঙ্গো ফুটবল দলের। মহামারির আশঙ্কায় সেই সফরটি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
১৭ই জুন পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ ‘কে’-তে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে কঙ্গো। এরপর কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা।
