শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিং মামলায় ডাক্তার গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

যশোরে শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে রাফসান জানি নামে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে যশোর শহরের উপশহর এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান। আটককৃত চিকিৎসক যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। তদন্তকারী কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান জানান, ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে তার শ্যালিকা মণিরামপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ায়। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে যশোর উপশহরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও জানান, মামলার অভিযোগ মতে, প্রায় তিন বছর আগে পড়াশোনা করানো এবং নিজের সন্তানদের দেখাশোনার কথা বলে ডা. রাফসান জানি তার শ্যালিকাকে যশোরে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন।

শুধু তাই নয়, ধর্ষণের সেই দৃশ্য গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে তা দিয়ে ভুক্তভোগীকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল (ভয়ভীতি প্রদর্শন) করতে থাকেন। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন ও আশ্বাস দিয়ে মণিরামপুর উপজেলা সদরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ভুক্তভোগীকে সেখানে রাখেন ওই চিকিৎসক। সেখানেও দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী এজাহারে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত ডা. রাফসান জানিকে আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মামলা দায়েরের পর সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করেন ডা. রাফসান জানি। এমনকি তার শ্যালিকা, শ্বশুর-শাশুড়িও পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন। এমনকি মণিরামপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে শ্যালিকাকে আটকে রেখে ভুল বুঝিয়ে মামলা করানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন