পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ার উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব মৌমাছি দিবস-২০২৬ উদ্যাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে “জলবায়ু সহনশীল মৌচাষ ও মৌজাত পণ্যের উপকারিতা বিষয়ক” দিনব্যাপী এক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। রোববার ২৪শে মে একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি।
এবারের বিশ্ব মৌমাছি দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে: “মানুষ ও মৌমাছি পৃথিবীতে একত্রে বসবাস একটি অংশীদারিত্ব; যা আমাদের টিকিয়ে রাখে”। বাংলাদেশ মৌচাষি সোসাইটির সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রায় ৫০০ জন মৌচাষি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, মৌচাষ এখন শুধু সাধারণ মধু উৎপাদনের বিষয় নয়; এটি আমাদের দেশের কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধির একটি অন্যতম কৌশলগত খাত।
মৌচাষের আধুনিকায়নে সরকারের বড় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বগুড়াকে কেন্দ্র করে একটি সুসংহত ‘ইবব ইৎববফরহম ধহফ ঐড়হবু চৎড়পবংংরহম চষধহঃ’ স্থাপন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে ‘ছঈ খধন’, সুপার বক্সের ব্যবহার, ফুডগ্রেড কন্টেইনার, প্যাকেজিং ও আধুনিক স্টোরেজ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এই প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে মধুর উৎপাদন ও মান উভয়ই বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব। এ ছাড়া উৎপাদিত নিরাপদ মধু বাজারজাতকরণের জন্য দেশ জুড়ে ১০০০টি আউটলেট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে ইমাম ও মুয়াজ্জিনভিত্তিক সচেতনতা ও বিপণনের একটি বিশেষ উদ্যোগ এই মহাপরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএ বগুড়ার উপ-পরিচালক ড. মনিরুল ইসলাম। তিনি দেশের বর্তমান মধুর বাজার ও ঘাটতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। ড. ইসলাম জানান, বর্তমানে দেশে বার্ষিক মধুর চাহিদা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টন। কিন্তু ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে মধু উৎপাদন ও সংগ্রহের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টন। ফলে প্রতি বছর বাজারে প্রায় ৫ থেকে ১০ হাজার টন মধুর ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। অথচ সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক মাননিয়ন্ত্রণ এবং ব্র্যান্ডিং করা গেলে দেশের প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৫০০ কোটি টাকার এই বিশাল মধুর বাজারের সম্ভাবনাকে শতভাগ কাজে লাগানো সম্ভব।
বিশেষ করে সুপার বক্সের ব্যবহার, ট্রেসেবিলিটি, রেসিডিউ টেস্ট এবং এক্সপোর্ট-গ্রেড প্যাকেজিং নিশ্চিত করতে পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মধুর বড় ধরনের রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আরডিএ গবেষণায় উত্তর অঞ্চলকে মৌচাষের বাস্তব কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে মৌচাষির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
আরডিএ বগুড়ার মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফেরদৌস হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, গোপালগঞ্জের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বাসা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ মৌচাষি সোসাইটির চেয়ারম্যান এ কে এম সিরাজুল ইসলাম।
উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধের ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন আরডিএ’র সাবেক পরিচালক ড. একে এম জাকারিয়া। পুরো অনুষ্ঠানটির সফল বাস্তবায়নে কোর্স সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. মনিরুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক অন্তরা খাতুন।
