ব্যাংকিং খাতে ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে গেছে: গভর্নর

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণের নামে ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়েছে। যার বেশির ভাগই পাচার হয়ে গেছে। বলেন, ব্যাংকিং সিস্টেমের এক তৃতীয়াংশ টাকাই নেই, যেটাকে আমরা ভদ্র ভাষায় খেলাপি ঋণ বলছি। শনিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন গভর্নর। এর আগে বন্ধ কারখানা চালু ও অর্থনীতি ‘সক্রিয় করতে’ ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি।

খেলাপি ঋণ কমাতে ‘অ্যাসেট রিকোভারি নিয়ে কাজ করছি’ মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, যে ১০০ টাকা নিয়েছে, তার কাছে কিন্তু একশ’ টাকা নাই। আমরা এখন কাজ করছি এই টাকা কীভাবে আদায় করা যায়। বড় অঙ্কের ঋণ দেয়ার আগে একক গ্রাহক ঋণ সীমা বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়াও গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করতে ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে বিশাল অঙ্কের ঋণ সুবিধা বাড়ালে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কিনা, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, একক ঋণগ্রহীতার ‘এক্সপোজারটা’ কোথায়, তা আপনারা জানেন। তিনি বলেন, এ কারণে আমাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে, তার (গ্রাহকের) সীমা বাড়ানো দরকার। এর মানে এই না যে, ব্যাংক ঋণ দিয়ে দিবে। আমরা প্রত্যাশা করি, ব্যাংক ভালো গ্রাহককে দেবে। গভর্নর বলেন, এই ঋণে সরকার ৬ শতাংশ হারে সুদ ভর্তুকি দেবে।

এখানে অতিরিক্ত কোনো টাকা ছাপানো হবে না। এটা ব্যাংকিং খাতের টাকা, ব্যাংক থেকেই দেয়া হবে। কিছু ব্যাংকের অতিরিক্তি তারল্য আছে, তা ঋণ দিয়ে আবার ব্যাংকে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করবো, লু-ফলসগুলো যেন ঠিক করা হয়, তা সার্কুলারের মাধ্যমে জানানো হবে।

বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি এখন ৫ শতাংশের নিচে নেমেছে। অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এখন ঋণ প্যাকেজ না দেয়া ছাড়া উপায় নেই বলে মনে করেন গভর্নর। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের হাতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল (চলতি মূলধন) ড্রাই হয়ে গেছে। তাদের কাছে টাকা নাই। অর্থনীতি যে অবস্থায় আছে, এই মুহূর্তে এটা ছাড়া আমাদের হাতে আর কোনো চয়েস নাই। ইকোনমি বুস্ট করার জন্য করতে হয়েছে।


ট্যাগসমূহ:

AA++

১ মাস আগে

I don't belive.

[email protected]

১ মাস আগে

Yes, 200% correct information. আমরা এমন পরিস্থিতিতে আসছি, যখন ব্যাংক খাত থেকে ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে গেছে। এ খাতের এক-তৃতীয়াংশ টাকাই নাই, যেটাকে আমরা “সফিস্টিকেটেডভাবে” (ভদ্রভাবে) খেলাপি ঋণ বলছি। চুরি হয়ে যাওয়া এ ঋণের বিপরীতে কোনো জামানত নাই। এসব অর্থের অধিকাংশই দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে।’

মন্তব্য করুন