শান্ত’র সেঞ্চুরি তাইজুলের ‘ফাইফার’

বড় জয় মোহামেডান-আবাহনীর

শান্ত’র সেঞ্চুরি তাইজুলের ‘ফাইফার’

ফন্ট সাইজ:

পাকিস্তান সিরিজ শেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের সপ্তম রাউন্ডে মাঠ কাঁপালেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। এতে বেড়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটের রোমাঞ্চ। আর ব্যাটে-বলে দাপুটে নৈপুণ্য দেখালেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তাইজুল ইসলামরা।

শান্ত হাঁকান সেঞ্চুরি আর তাইজুল তুলে নেন ফাইফার। গতকাল অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে আবাহনী লিমিটেডের হয়ে ৯০ বলে ১০৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন শান্ত। এতে ৯ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় আবাহনী। এ জয়ে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে উঠে এসেছে আকাশি-হলুদরা। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের সেরা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহীম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ৬২ বলে খেলেন ৭২ রানের ইনিংস। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে ৮৬ রান। তাতে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৩৪৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় মোহামেডান। জবাবে তাইজুল ইসলামের স্পিনে কাবু গুলশান ১০৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। পাঁচ উইকেট নেন তাইজুল। ২৩৭ রানের বড় জয়ে ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখলো মোহামেডান।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ২০০ শিকার পূর্ণ হলো তাইজুল ইসলামের। এখানে ১৪১ ম্যাচে এ বাঁহাতি স্পিানেরর শিকার ২০১ উইকেট। বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে তাওহিদ হৃদয়ের দল। দলীয় ২৩ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় মোহামেডান। ব্যক্তিগত ১১ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। আরেক ওপেনার নাঈম শেখও ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৪৮ বলে ৩০ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। এরপর তৃতীয় উইকেটে ১০৮ রানের জুটি গড়েন হৃদয় ও মুশফিক। এই দুজনের বিদায়ের পর আফিফ হোসেন (৫৫),ইয়াসির আলী চৌধুরি রাব্বি (২৯) ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের (৪৪) ক্যামিওতে বড় সংগ্রহ পায় মোহামেডান। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় অর্ধশতক পেরোনোর আগেই ছয় ব্যাটারকে হারিয়ে ধুঁকতে থাকে গুলশান।

মোহামেডানের দুই স্পিনার গুলশানের ব্যাটারদের তেমন সুযোগ দেননি। ১০৮ রানে গুটিয়ে যায় গুলশান। ২৬ রান খরচায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৪তম ফাইফার তুলে নেন তাইজুল। আরেক স্পিনার তানভীর ইসলাম নেন ৪ উইকেট। ইউল্যাব মাঠে আবাহনীর বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি অগ্রণী ব্যাংক। নবম ওভারে দলীয় ৪৬ রানের মাথায় ওপেনার সাদমান ইসলামকে হারায় অগ্রণী ব্যাংক। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রানে অলআউট হয় দলটি। আবাহনীর পাঁচ বোলার দুটি করে উইকেট নেন। জবাবে দলীয় ৮ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় আবাহনী। ১৪ বলে ৬ রান করা ওপেনার জিসান আলম ফিরে যান বোল্ড হয়ে। এরপর তিনে নামা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক নাজুমল হোসেন শান্ত। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। এ জয়ে ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে ওঠে এসেছে নেট রান রেটে এগিয়ে থাকা আবাহনী।
পিকেএসপিতে দিনের আরেক ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ১৯ রানে হারায় সিটি ক্লাব। এ হারে দুই ধাপ পিছিয়ে চারে চলে গেছে প্রাইম ব্যাংক। আগে ব্যাট করে এনামুল হক আনামের সেঞ্চুরিতে ভর করে ২৬৬ রান তুলে সিটি ক্লাব। জবাব দিতে নেমে সেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে থাকতে আউট হন আজিজুল হাকিম তামিম।

এরপর মিডল অর্ডারদের ব্যর্থতায় নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৭
রান তুলে প্রাইম ব্যাংক। সিটি ক্লাবের হয়ে ১০ ওভারে ৪১ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন। আরেকম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৭ রানে হারায় বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। দলটির হয়ে সেঞ্চুরি করেন ফজলে মাহমুদ রাব্বি। ৫ ছক্কা, ১৩ চারে ১১৩ বলে খেলেন ১৩২ রানের ইনিংস। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩২৪ রান করে বসুন্ধরা। জবাব দিতে নেমে ৩১৭ রানের বেশি করতে পারেনি ব্রাদার্স। মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ৭ উইকেটে হারায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। আর বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে রূপগঞ্জ টাইগার্সকে ৩০ রানে হারায় ঢাকা লেপাডর্স।

Zahedul Anwar

১ মাস আগে

তাইজুল আমার প্রিয় একজন খেলোয়াড়। দেশ ও ক্রিকেটের প্রতি তার আত্মত্যাগ আমাকে মুগ্ধ করে। তাইজুলের জন্য অনেক শুভ কামনা।

মন্তব্য করুন