বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া প্রার্থীদের তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য ৩৩ জনের মধ্যে ৬ জন প্রার্থী সরাসরি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন।
মূলত তাদের নির্দিষ্ট পদের বিপরীতে অন্য কোনো শক্ত প্রতিপক্ষ বা দ্বিতীয় কোনো প্রার্থী না থাকায় এই ৬ জন ভোট ছাড়াই পাস করে যাচ্ছেন। গতকাল রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। তবে এই নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ক্রীড়াঙ্গনে অন্য আরেকটি বিষয় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যোগ্য প্রার্থীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই বর্তমান সরকারি দল বিএনপির বিভিন্ন স্তরের সংসদ সদস্য অথবা মন্ত্রীদের খুব ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন। আঞ্চলিক ও জেলা স্তরের ক্যাটাগরি-১ থেকে মোট ৫ জন এবং অন্যান্য প্রতিনিধির ক্যাটাগরি-৩ থেকে ১ জন মিলে মোট ৬ জন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সরাসরি বোর্ডে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। ঢাকা বিভাগ থেকে ২টি পরিচালক পদের জন্য কেবল ২ জনই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, অর্থাৎ তাদের কোনো প্রতিপক্ষ নেই। তারা হলেন বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ছেলে সাইদ বিন জামান এবং এস এম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ।
অন্যদিকে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে একমাত্র যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিনা বাধায় পাস করছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। একইভাবে রাজশাহী থেকে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং রংপুর বিভাগ থেকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের ভাই মির্জা ফয়সল আমীন নিজ নিজ পদে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন। শাকরুল হলেন বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের ছেলে। ক্যাটাগরি-৩ এ সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীরও একইভাবে নির্বাচিত হচ্ছেন।
ক্লাব ক্যাটাগরিতেও ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের দারুণ ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ক্যাটাগরিতে ১২টি পদের বিপরীতে মোট ১৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন কিনেছেন। বর্তমান অ্যাডহক কমিটির তিন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস এখান থেকেই নির্বাচন করছেন। তাদের পাশাপাশি সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলামের বোর্ডের ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত আরেক পরিচালক ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সালও ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব থেকে কাউন্সিলর হয়ে লড়ছেন। ফয়সালের বাবা আবুল কালাম স্বয়ং কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য। সব মিলিয়ে সাধারণ ক্রীড়া সংগঠকদের তুলনায় রাজনৈতিক নেতাদের স্বজনদের আধিপত্য অনেক বেশি পরিষ্কার। যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তাদের প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত। যে ৪টি বিভাগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তার মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনাতেও রাজনৈতিক নেতাদের আত্মীয়দের জোরালো উপস্থিতি রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে পরিচালক পদে লড়ছেন মাঈন উদ্দিন চৌধুরী। তিনি পানিসম্পদমন্ত্রী এবং লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর চাচা।
এ ছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর পরিচালক হওয়ার সময়ের ব্যাপার মাত্র। আবার খুলনা বিভাগ থেকে প্রার্থী হয়েছেন শান্তনু ইসলাম। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলামের নিজের ভাই। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জেলা ও বিভাগ ক্যাটাগরিতে মোট ১০টি পদের বিপরীতে ১৪ জন লড়ছেন। আগামী ৭ জুন এই বহু চর্চিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সে দিন সব মিলিয়ে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে সরাসরি আরও ২ জন পরিচালক হিসেবে বোর্ডে মনোনয়ন পাবেন। এই সর্বমোট ২৫ জন পরিচালকের প্রত্যক্ষ ভোটেই পরবর্তীতে বোর্ডের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হবেন। বলার অপেক্ষা রাখে না তামিম ইকবাল পরিচালক হলে তিনিই হয়তো বিসিবির পরবর্তী নির্বাচিত সভাপতি হতে যাচ্ছেন।
