নারী হকি ও কাবাডি দলকে সংবর্ধনা

নারী হকি ও কাবাডি দলকে সংবর্ধনা

ফন্ট সাইজ:

আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য দেখানোয় সংবর্ধনা পেলেন বাংলাদেশ নারী হকি ও কাবাডি দলের খেলোয়াড়রা। সঙ্গে পেলেন অর্থ পুরস্কার। প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে নারী হকি দল।

অন্যদিকে, এশিয়ান বিচ গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে নারী কাবাডি দল। লাল-সবুজের দুই সফল প্রতিনিধিদলকে গতকাল বিমানবাহিনীর ফ্যালকন হলে বর্ণিল এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যৌথ সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জয়ীদের হাতে আর্থিক প্রণোদনা তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাইমা রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। আরও উপস্থিত ছিলেন কাবাডি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মোতাহের হোসেন।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের বাছাই টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হওয়া নারী হকি দলের প্রত্যেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার পান। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি এই অর্থ পেয়েছেন দলের কোচ ও ফিজিও। এর বাইরে নারী হকির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ব্র্যাক ব্যাংকও খেলোয়াড়দের আরও ১ লাখ টাকা করে বোনাস দিয়েছে। ফলে হকি দলের একেকজন সদস্য পেয়েছেন মোট ২ লাখ টাকা। এশিয়ান বিচ গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী নারী কাবাডি দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদেরও পুরস্কৃত করেছে সরকার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের ১ লাখ টাকা করে আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে জাপানে অনুষ্ঠেয় জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ নারী ও পুরুষ দলের জার্সি উন্মোচন ও ফটোসেশন করা হয়।

পুরস্কার পেয়ে নারী হকি দলের অধিনায়ক অর্পিতা পাল বলেন, ‘হকি ফেডারেশন, বিকেএসপি ও সরকার আমাদের অনেক সাহায্য করেছে। আমাদের স্বপ্ন এবার অলিম্পিক খেলা।’ আর বিচ কাবাডি দলের অধিনায়ক শ্রাবণী মল্লিক বলেন, ‘বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকা ওড়াতে আমরা সবার সহযোগিতা চাই।’ অনুষ্ঠানে হকি ফেডারেশনের সভাপতি এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অপর্যাপ্ত টার্ফ ও ব্যয়বহুল সরঞ্জামের মতো হকির নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। বিকেএসপির সাবেক মহাপরিচালক ও কাবাডি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মোতাহের হোসেন বিকেএসপির সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘বিকেএসপি নিয়ে আমরা নতুন করে কাজ করছি। হকি খেলোয়াড় তুলে আনতে আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট ছোট ‘মিনি টার্ফ’ করার পরিকল্পনা করছি।’

হকি ও ফুটবল সরঞ্জাম নির্ভর খেলা উল্লেখ করে নিজের খেলোয়াড় জীবনের একাল-সেকালের একাল টেনে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উপস্থিত খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, ‘এখনো কোথাও খেলতে গেলে আমি নিজেই নিজের বুট ও কিটব্যাগ বহন করি। যখন মাঠে খেলতাম, তখন প্র্যাকটিস কিংবা খেলা শেষে নিজেই নিজের বুট পরিষ্কার করতাম। নিজের খেলার সরঞ্জাম নিজে বহন ও যত্ন করলে সেটার সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক বাড়ে এবং খেলার প্রতি গুরুত্ব তৈরি হয়।’


ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন