মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে বিনা টেন্ডারে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে। জেলার কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর হাইওয়ে সড়কের আড়পাড়া নামক স্থানে কোনো প্রকার টেন্ডার (দরপত্র) আহবান ছাড়াই তিনটি কড়ই গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের আড়পাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বড় কড়ই গাছ গত কয়েকদিন ধরে কাটা হচ্ছে। গাছগুলো সম্পূর্ণ সতেজ এবং সবুজ পাতায় পরিপূর্ণ ছিল। কোনোভাবেই এগুলো মৃত বা সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তির মৌখিক আবেদনে জেলা পরিষদ থেকে গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সম্পদ বিক্রয় বা কাটার আগে টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি।
আড়পাড়া এলাকার আব্দুর রউফ জানান, এই শতবর্ষী গাছগুলো কালীগঞ্জের ঐতিহ্য। এই গাছ গুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে। তরতাজা এই গাছগুলো এভাবে কেটে ফেলা চরম অন্যায়। তিনি এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে এই গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন। এই গাছ কাটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশবিদ মিজানুর রহমান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটময় সময়ে যেখানে দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহ চলছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি এলাকায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর উৎসাহ দিচ্ছেন, সেখানে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ উল্টো পথে হাঁটছে। এটি সরকারি সম্পদের অপচয় এবং পরিবেশের ওপর চরম আঘাত।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের কর্মচারী মিল্টন বলেন, ওই এলাকার বাবলু হোসেন নামের একজন আমাদের অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছেন। অফিস আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে এটি দেখভাল করার জন্য। সেখান থেকে কিছু ডাল বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের সিএ শফিউদ্দিন জানান, আড়পাড়া গ্রামের বাবলুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি ঐ গাছগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃত দাবি করে সেগুলো কাটার জন্য জেলা পরিষদে আবেদন করেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই গাছগুলো কাটা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, বিভিন্ন সড়কে জেলা পরিষদের ডালপালাবিহীন, মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ২৯শে মার্চ জেলা পরিষদের এক সভায় এ সংক্রান্ত অনুমোদন নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেকই আড়পাড়া এলাকার গাছগুলো কাটা হচ্ছে। গাছ কাটার পরে নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
