ডোনাল্ড  বলেছিলেন, ‘চলো ওকে দলে নেই’

ডোনাল্ড বলেছিলেন, ‘চলো ওকে দলে নেই’

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশের সাবেক পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড গতিময় পেসার নাহিদ রানাকে নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি বিখ্যাত ক্রিকেট সাময়িকী ‘উইজডেন’-এর একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি নাহিদের প্রতিভা, গতি এবং চমৎকার অ্যাথলেটিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ, পিএসএল (পাকিস্তান সুপার লীগ), এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ক্রিকেট দুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নাহিদ। তরুণ এই তুর্কির এমন সাফল্যে তাকে আলাদাভাবে স্মরণ করলেন টাইগারদের সাবেক এই বোলিং গুরু। নাহিদের প্রতিভা নিয়ে ডোনাল্ড বলেন, ‘নাহিদ রানা কিন্তু দারুণ এক ছেলে, ওকে সামলানো প্রতিপক্ষের জন্য বেশ কঠিন। ও বেশ দ্রুতগতির এবং ছিপছিপে গড়নের। এককথায় ও একজন চমৎকার অ্যাথলেট।’
সাবেক এই প্রোটিয়া কিংবদন্তি জানান, প্রথমবার নাহিদকে তিনি চট্টগ্রামের একটি বিশেষ ক্যাম্পে দেখেছিলেন, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ ফাস্ট বোলারদের বাছাই করে আনা হয়েছিল। সেখানে আড়াই দিনের ক্যাম্পেই নাহিদের গতি দেখে মুগ্ধ হন তিনি। তৎকালীন প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোকে সরাসরি দলভুক্ত করার সুপারিশ করেছিলেন। ডোমিঙ্গোকে ডোনাল্ড বলেছিলেন, ‘শোনো, এই ছেলেটাকে যেকোনো জায়গায় সুযোগ দিয়ে দাও। চলো ওকে দলে নিই। ও একদম অচেনা, কাঁচা, কিন্তু দারুণ গতিময়।’
এখনো একটি গ্রুপের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের সঙ্গে ডোনাল্ডের যোগাযোগ হয়। ডোনাল্ড বলেন, ‘আমাদের এখনো একটা গ্রুপ আছে। ২০২৩ সালে ভারতে ক্রিকেট বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আমি যখন চলে আসি, তখন বলেছিলাম যে আমি এই গ্রুপটা রিমুভ করবো না। তোমাদের যখনই দরকার হবে আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য এটি থাকবে। আমি মাঝেমধ্যেই তোমাদের খোঁজখবর নেবো। তো তারা সবাই সেখানে আছে।’
বাংলাদেশের পেস ইউনিটের উন্নতি দেখে নিজের ভালো লাগার কথাও জানান তিনি। বিশেষ করে এই কয়েক বছরে তরুণ বোলারদের বেড়ে ওঠা তাকে মুগ্ধ করেছে। ডোনাল্ড বলেন, ‘এই ৩-৪ বছর সময় ধরে এই গ্রুপটা যেভাবে বড় হয়েছে, তা দেখা সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি। এটা দেখা চমৎকার, আর তাসকিন আহমেদ বেশ ভালোভাবে এর নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমাদের এখনো কথা হয়। আমি মাঝেমধ্যে ওদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলি। সাধারণ বিষয়, স্বাস্থ্য এবং পরিবার নিয়ে আমাদের ভিডিওতেও কথা হয়।’ বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ব্যক্তিত্ব এবং পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়েও প্রশংসা করেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি এই পেসার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণদের একটা বিষয় আমাকে সত্যিই ছুঁয়ে গেছে, তা হলো তারা কতটা আন্তরিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধসম্পন্ন।’
এখন পর্যন্ত ১২টি টেস্টের ২১টি ইনিংসে বোলিং করে নাহিদ রানার শিকার ৩৮ উইকেট। ইকোনোমি ৪.৫৮। টেস্টে ডানহাতি এ পেসারের সেরা বোলিং ফিগার ৪০ রানে ৫ উইকেট। ম্যাচে সেরা বোলিং ফিগার ৯৩ রানে ৬ উইকেট। ওয়ানডেতে ১১ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ২১ উইকেট! গড় মাত্র ২৪.০০। ওয়ানডে ক্রিকেটে একবার ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও গড়েছেন তিনি। যেখানে ২৪ রান খরচায় ৫ উইকেট ছিল তার ক্যারিয়ার সেরা স্পেল। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছে তার। সেখানে ২ ওভার বল করে ২৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩১ ম্যাচে ১১২টি উইকেট শিকার করেছেন নাহিদ রানা। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও দুর্দান্ত ডানহাতি এ পেস বোলার। পাকিস্তান সুপার লীগে ৫ ম্যাচে ৫.৪৪ ইকোনোমিতে নেন ৯ উইকেট। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে ২৫ ম্যাচে নাহিদের শিকার ২৩ উইকেট।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন