আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ। মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, এ আসনে মূল লড়াই গড়ে উঠেছে বিএনপি’র প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরীর মধ্যে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ দীর্ঘদিন ধরে এ আসনটি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অতীতে শিল্পায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজের কারণে প্রভাব বলয় এখানে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এবার সংগঠিত প্রচারণা, তৃণমূল কর্মসূচি এবং তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। ফলে নির্বাচনের আগে থেকেই এ দুই দলের মধ্যে সমানে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। এই আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৭ প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা), সুন্নি জোটের ইসলামী ফ্রন্টের এস এম শাহজাহান (মোমবাতি), গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) মোহাম্মদ এমরান (সিংহ), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা (আপেল), জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী (লাঙ্গল) ও গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান (ট্রাক)। সাত প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মাঠে রয়েছে বিএনপি’র প্রার্থী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী, সুন্নি জোটের ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রার্থী। প্রচারণার দুইদিন বাকি থাকলেও বাকি তিন প্রার্থীদের কাউকেই দেখা যায়নি। চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মোট ১৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে আনোয়ারা উপজেলায় ১১টি এবং কর্ণফুলী উপজেলায় ৫টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত। মোট ভোটার তিন লাখ ৯৫ হাজার ২৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৭ হাজার ৭১৪ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৮৭ হাজার ৫৩২ জন। মোট কেন্দ্র ১১৮টি এবং ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭৯০টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন ভোটার রয়েছেন, যাদের বড় অংশই তরুণ-তরুণী। পাশাপাশি প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশও এবার প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ব্যবধান যদি কম হয়, তাহলে এই ৩৫ হাজার নতুন ভোটারই চট্টগ্রাম-১৩ আসনের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নতুন ভোটারদের আস্থা অর্জন করাই প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যান মতে, ১৯৭৩ সালে ৭ই মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ ইদ্রিছ বিকম। ১৯৭৯ সালে ১৮ই ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপি’র শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। ১৯৮৬ সালের ৭ই মে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। এই নির্বাচনের তিন বছরের মধ্যে ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হন জাসদের আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত বিরোধীদলের মোখতার আহমেদ। একই আসনে ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপি’র সরওয়ার জামাল নিজাম। একই বছরের ১২ই জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচনেও জয়লাভ করেন তিনি। এরপর ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপি’র সরওয়ার জামাল নিজাম। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হন আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। ২০১২ সালে তিনি ইন্তেকাল করলে শূন্য আসনে উপ-নির্বাচন করা হয়। ২০১৩ সালের ১৭ই জানুয়ারি উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাবুর জ্যেষ্ঠ সন্তান আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ওই নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন।
২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তবে ওই নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করেনি। এরপর ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হন জাবেদ। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। বিএনপি’র প্রার্থী বলেন, অতীতে আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকায় শিল্পায়নের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে নতুন শিল্প স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণদের জন্য সুযোগ বাড়ানো হবে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বলেন, তরুণদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম-১৩ : নিজাম-মাহমুদুলের সমানে সমান লড়াই
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
