রংপুরে পশুর হাটে এবারের চিত্র ভিন্ন

রংপুরে পশুর হাটে এবারের চিত্র ভিন্ন

ফন্ট সাইজ:

কোরবানি ঈদকে ঘিরে রংপুরে পশুর হাটে গরু-ছাগলের অভাব না থাকলেও নেই কোনো ক্রেতা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারি ও গৃহস্থরা গরু-ছাগল ও খাসি পালন করে থাকেন। ঈদের সময় এসব পশু বিক্রি করে তারা আর্থিক সচ্ছলতার মুখ দেখেন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারের কোরবানি ঈদের চিত্র ভিন্ন। নিত্যপণ্য দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রভাব পড়েছে কোরবানি পশুর ওপর। এককভাবে গরু কোরবানি দেয়ার প্রবণতা এবার কম দেখা যায়। তবে সাতজন মিলে একটি গরু কিনতেও মধ্যবিত্তদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্য বারের তুলনায় এবার কোরবানি ঈদের আমেজ কম লক্ষ্য করা গেছে।

হাটে প্রচুর গরু-ছাগল উঠলেও সেই হিসেবে ক্রেতা শূন্যতায় বিপাকে পড়েছে বিক্রেতারা। লালমনিরহাট সেলিম নগরের কৃষক সামছুল মিয়া বলেন, লাভের আশায় গরু পুষে কোরবানি ঈদে বিক্রির প্রস্তুতি নিয়ে রংপুর লালবাগ হাটে এসেছি, ক্রেতা না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছি। হাটে গরু কিনতে আসা শাহজামান অনি বলেন, হাটে গরু-ছাগল অনেক উঠলেও দাম রয়েছে নাগালের বাইরে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে বনিবনা না হওয়ায় ফিরে যেতে হচ্ছে। এদিকে কোরবানিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে হাট সংলগ্ন গরুর আবাসিক হোটেল। ক্রেতাগণ জায়গার অভাবে গরু কিনে এই আবাসিক হোটেলে একরাতের জন্য ৭০ টাকা দিয়ে ভাড়ায় গরু রাখেন।

এ ছাড়াও গরুর খাবার খরচ বাবদ প্রকারভেদে এক থেকে দেড়শ’ টাকা করে নিয়ে থাকেন। ওদিকে কোরবানির পশু কেনাবেচা করতে এবং পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। জেলার ৮ উপজেলায় ৩২টি পশুর স্থায়ী হাটের পাশাপাশি ২৯টি অস্থায়ী হাট বসেছে। সার্বক্ষণিক পশু স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪১টি বিশেষ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম। সেইসঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। চলতি বছরের কোরবানি পশুর বিক্রিসহ অর্থনীতিতে রংপুর বিভাগে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডাক্তার মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার।

সরজমিন রংপুর নগরীর লালবাগ, বুড়িরহাটসহ বেশ কয়েটি গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট সাইজের গরু ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা, মাঝারি সাইজের গরু ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং বড় সাইজের গরু আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় সাইজের গরুর চাহিদা খুবই কম থাকলেও ছোট এবং মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি। অপরদিকে প্রতিটি খাসি এবং ছাগল বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ১২ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকায়। প্রাণিসম্পদ দপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ঈদুল আজহায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রায় ১৫ লাখ পশু কোরবানি দেয়া হয়েছিল।

এবার কিছুটা বেড়ে তা সাড়ে ১৫ লাখে দাঁড়াতে পারে। এবার ২০ লাখের বেশি রংপুর বিভাগে গরু-খাসি কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র মতে, মোট পশুর তিনভাগের এক ভাগ হচ্ছে গরু এবং দুই ভাগ হচ্ছে খাসি-ছাগল। সেই হিসেবে এবছর রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় সাড়ে ৫ লাখ গরু এবং ১০ লাখ খাসি-ছাগল কোরবানি দেয়া হতে পারে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য মতে ইতিমধ্যে বিভাগের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৪ জন ছোট-বড় খামারির মাধ্যমে ২০ লাখের বেশি গরু, মহিষ, ছাগল, উট, দুম্বা, ভেড়াসহ কোরবানির প্রাণী প্রস্তুত করেছেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন