দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ, তথা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহাযজ্ঞ শুরু হতে বাকি আর মাত্র তিন সপ্তাহ। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে পর্দা উঠছে ৪৮ দেশের এই মহাযুদ্ধের। তিন আয়োজক দেশ— যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার ১৬টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে সর্বমোট ১০৪টি ম্যাচ। ঠিক এমন মাহেন্দ্রেক্ষণে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ চমক নিয়ে হাজির হয়েছে বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টিকিটধারী দর্শকদের জন্য তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চালু করেছে বিশেষ ‘ফিফা ফ্যান আইডি’। শুক্রবার নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ ঘোষণা দেয় ফিফা।
ফিফা জানায়, এটি কেবল খেলা দেখার সাধারণ কোনো অনুষঙ্গ নয়, বরং এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রবেশের এক জাদুকরী চাবিকাঠি। ১৬টি স্টেডিয়ামের ফ্যান ইনফরমেশন বুথ থেকে টিকিট দেখিয়ে দর্শকরা এই ফিজিক্যাল কার্ডটি সংগ্রহ করতে পারবেন। স্মার্টফোনে কার্ডটি ট্যাপ করামাত্রই খুলে যাবে এক অনন্য ডিজিটাল জগৎ। এর মাধ্যমে দর্শকরা অগমেন্টেড রিয়্যালিটি (এআর) ভিডিও বার্তা, আকর্ষণীয় ফিফা রিওয়ার্ডস এবং স্টেডিয়াম সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাবেন হাতের মুঠোয়। শুধু তাই নয়, নিজের প্রিয় মুহূর্তের ছবি দিয়ে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল মার্চেন্ডাইজ বা জার্সি-স্মারক নিজের মতো করে সাজিয়ে নেয়ার একচেটিয়া সুযোগও থাকছে এই কার্ডে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই ফ্যান আইডি দর্শকদের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার দরজা খুলে দেবে। ম্যাচ শেষেও এই কার্ডটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আজীবনের জন্য এক অমূল্য স্মারক হিসেবে থেকে যাবে।’
উল্লেখ্য, এই কার্ডটি স্টেডিয়ামে প্রবেশের মূল টিকিট বা কোনো দেশের ভিসার অনুরূপ কিছু নয়। ফলে মাঠে ঢোকার জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়। তবে ম্যাচ ডে-র পুরো রোমাঞ্চ উপভোগ করতে দর্শকদের ম্যাচ শুরুর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে স্টেডিয়ামে এসে এই ফ্যান আইডি সংগ্রহের তাগিদ দিয়েছে ফিফা।
এবার গ্যালারিতে বসে খেলা দেখবেন ছয় কোটিরও বেশি দর্শক। আশা করা হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০০ কোটি মানুষ এই আসরে যুক্ত থাকবেন। শুধুমাত্র ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে টিকিট ও হসপিটালিটি প্যাকেজ কেনা দর্শকরা এই ফ্যান আইডি পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
