খেলাধুলায় তরুণদের সম্পৃক্ত রাখতে ক্রীড়া কাঠামো পুনর্গঠন করছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

খেলাধুলায় তরুণদের সম্পৃক্ত রাখতে ক্রীড়া কাঠামো পুনর্গঠন করছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

তরুণ প্রজন্মকে নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে সরকার ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ক্রীড়া কাঠামো পুনর্গঠনে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের দীর্ঘ সময় খেলাধুলার মধ্যে রাখতে তৃণমূল থেকে প্রতিভা বাছাইয়ের একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স রিক্রিয়েশন সেন্টার (ইআরসি) মিলনায়তনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) উপলক্ষে আয়োজিত ‘হেলদি এজিং’ শীর্ষক সেমিনার ও স্পোর্টস টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খেলোয়াড় তৈরি করা হবে। ঈদের পর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হবে বলেও জানান তিনি। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া মৌসুম শুরু হয়ে মার্চ বা এপ্রিল পর্যন্ত চলবে, যাতে তরুণরা বছরের উল্লেখযোগ্য সময় খেলাধুলার মধ্যে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, নতুন ক্রীড়া কাঠামোর আওতায় বর্তমানে আটটি খেলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী মৌসুম থেকে ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হলে খেলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১০টিতে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হবে এবং বিভাগীয় পর্যায়ের বিকেএসপি ও ঢাকার বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো হবে।
জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে খেলাধুলার সম্পর্ক তুলে ধরে মো. আমিনুল হক বলেন, আগের প্রজন্ম স্থানীয় উপকরণ দিয়ে খেলাধুলা করে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকত। বর্তমানে শিশুদের মাঠমুখী করা গেলে তারা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবে এবং রোগব্যাধিও কমবে।
‘হেলদি এজিং’ বা সুস্থ বার্ধক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, হাঁটাচলা, শরীরচর্চা ও খেলাধুলা সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের উদ্যোগ মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করতে সহায়ক।
তিনি আরও বলেন, নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় খেলার মাঠ ও হাঁটার পথের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন মাঠগুলো এমনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে সব বয়সী মানুষ শরীরচর্চার সুযোগ পান। টেবিল টেনিসসহ ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান সান্টু এবং সঞ্চালনা করেন প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু), অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান এবং প্রকৌশলী এ কে এম শোয়েব বাশরী হাবলু।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) বলেন, অতিরিক্ত মোবাইল ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনের কারণে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই প্রতিটি অঞ্চলে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। খেলাধুলা শুধু শারীরিক সক্ষমতাই বাড়ায় না, মানসিক বিকাশ ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, আইইবি গত ৭৮ বছর ধরে দেশের প্রকৌশলীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছে। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রবীণ ও নবীন প্রকৌশলীদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে ‘হেলদি এজিং’-এর ধারণা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মজীবনে প্রকৌশলীরা শারীরিক অনুশীলন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রকৌশলী এ কে এম শোয়েব বাশরী হাবলু বলেন, পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুস্থতাও দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রকৌশলীদের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শ. ম. মনজুরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য রক্ষা, সঠিক পুষ্টি ও নিয়মিত ব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান সান্টু বলেন, ৭৮তম ইঞ্জিনিয়ার্স ডে উপলক্ষে তাঁদের লক্ষ্য একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। দেশের উন্নয়নে প্রকৌশলীরা যাতে সুস্থ দেহে কাজ করে যেতে পারেন, সেই ভাবনা থেকেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে স্পোর্টস টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় আইইবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইআরসি ঢাকার সদস্য ও বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন