এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে মিডিয়া ও কমিউনিটি লিডারশিপে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির যৌথ লেজিসলেটিভ রেজ্যুলেশন সম্মাননা পেয়েছেন প্রফেসর শোয়াইব আহমেদ ভূঁইয়া। প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে তিনিই এই সম্মাননা পেলেন।
এই স্বীকৃতির মাধ্যমে মিডিয়া, শিক্ষা এবং জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে প্রফেসর শোয়াইবের অবদানকে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকান এবং বৃহত্তর এশীয় কমিউনিটির কণ্ঠস্বর ও সাফল্যকে সামনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তার ভূমিকাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
প্রফেসর শোয়াইব বর্তমানে ফেয়ারলি ডিকিনসন ইউনিভার্সিটি-তে সাইবার সিকিউরিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে অধ্যাপনা করছেন। এছাড়া তিনি কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, পেস ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক এবং এনএএসডি-এ শিক্ষকতা করেছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে একটি পরিচিত কণ্ঠ হিসেবে সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, যুদ্ধবিরোধী উদ্যোগ, সমঅধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার কাজের মূল প্রতিপাদ্য হলো-জাতি, জাতীয়তা, ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে মানবিক মর্যাদা, যুদ্ধ বিরোধী ও সমতার পক্ষে অবস্থান নেয়া।
প্রফেসর শোয়াইব সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের লাগোয়ার্ডিয়া কমিউনিটি কলেজ সিনেটে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান ফ্যাকাল্টি সিনেটর হিসেবেও ইতিহাস গড়েন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে বিশ্লেষণে প্রফেসর শোয়াইব আমন্ত্রিত হয়েছেন এবিসি, এনবিসি, আল জাজিরা, টিয়ারটি ওয়ার্ল্ড, স্টার নিউজ সহ বহু মিডিয়া অউটলেটে।
নিউ জার্সির আইনপ্রণেতা শ্যামা হায়দার এএপিআই নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবীদের অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এই যৌথ লেজিসলেটিভ রেজ্যুলেশন প্রফেসর শোয়াইবের হাতে তুলে দেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর প্রফেসর আহমেদ এই অর্জন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি এবং মিডিয়া, শিক্ষা ও জনসেবায় নিয়োজিত নতুন প্রজন্মের তরুণদের প্রতি উৎসর্গ করেন। এই স্বীকৃতিকে নিউ জার্সিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান অবদান ও সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি দ্বিভাষিক বিকল্প গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম রিপাবলিক টিভি ইউএসএ-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং দ্য ডেমোক্রেসি অ্যান্ড জাস্টিস শো-এর উপস্থাপক। তার অনুষ্ঠান বিশ্বের এশিয়া, আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে ব্যাপক দর্শক প্রিয়তা পেয়েছে।
