প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের পর বিচার নিয়ে আশ্বস্ত রামিসার পরিবার

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের পর বিচার নিয়ে আশ্বস্ত রামিসার পরিবার

ফন্ট সাইজ:

শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও হতবাক পুরো দেশ। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও অবরোধ হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। রামিসার শোক বিহ্বল পিতা শুরুতে বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেছিলেন বিচার চেয়ে কী লাভ? বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার মিরপুরের বাসায় গিয়ে তার বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেন। ঘটনার দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দেন। খোদ প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগে আশ্বস্ত হয়েছে রামিসার পরিবার। গতকাল মিরপুর-১১ এর সেকশন-৭ এর ব্লক বি’তে অবস্থিত বাসায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে রামিসার স্বজনদের অনেকে এসেছেন। বাসার সামনে স্থানীয় মানুষের ভিড়। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের বিষয়ে জানতে চাইলে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ভেজা চোখ মুছতে মুছতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন-একজন মেয়ের বাবা হিসেবে এবং একজন বড় ভাই হিসেবে আমি এখানে (তার বাসায়) এসেছি।

তার ভালোবাসা এবং আমাকে দেয়া যে কথা, সে কথার ওপর আমি ১০০ ভাগ বিশ্বাসী যে, আমার মেয়ে হত্যার বিচার পাবো। সুষ্ঠু এবং দ্রুত বিচার পাবো। প্রধানমন্ত্রী আমার সামনেই আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন, বাংলাদেশের আইন মেনে সর্বোচ্চ শাস্তি যেটা আছে সেটা যাতে নিশ্চিত করা হয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন অনুসারে আমি হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি।
রামিসার মা পারভীন আক্তার বলেন, আমার ছোট্ট মেয়েটার কোনো চাহিদা ছিল না। স্কুলে যাওয়ার সময় প্রতিদিন তার চাহিদা ছিল মাত্র ১০ টাকা। ওই টাকা দিয়েই সে টিফিনে খাবার কিনে খেতো। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। প্রতিদিন অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। রামিসা বলতো ও বড় হয়ে ডাক্তার হবে। আমার চিকিৎসা করবে। কিন্তু ডাক্তার আর হইতে পারলো না আমার মেয়ে। পাশের ফ্ল্যাট থেকে মেয়ের চিৎকার শুনেও আমি বুঝিনি আমার জন্য কী অপেক্ষা করছে, এই বলে হাউ-মাউ করে কান্না শুরু করেন তিনি।

এসময় রামিসার চাচা মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, রামিসার বাবা-মা ঘণ্টায় ঘণ্টায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। দু’দিন ধরে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে, তাও কান্না থামছে না। দাফন শেষ করে কবরের পাশ থেকে রামিসার বাবাকে টেনে তুলে আনতে পারি না। খাওয়া-দাওয়া করতে চাইছে না। শুধু পানিটুকু মুখে তুলে ধরলে একটু খাচ্ছে। তিনি বলেন, যেহেতু আসামি নিজে জবানবন্দি দিয়েছে, এরপরে তো আর কোনো সাক্ষী-তদন্তের দরকার নেই। আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

রামিসার কুলখানিতে অংশ নিতে গতকাল দুপুরের পর বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। সেখানে জুমার নামাজের পর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের ইছাপুরা ইউনিয়নের শিয়ালদী এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে রামিসার কবর জিয়ারত করেন পরিবারের সদস্যরা।

ওদিকে সকাল থেকেই রামিসার বাসার সামনে ভিড় করেন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা শ্রেণি- পেশার মানুষ। কারোর হাতে প্ল্যাকার্ড, কারো হাতে আবার সাদা কাগজে রঙিন কালিতে লেখা ‘বিচার চাই’। কেউ বা আবার আসেন নিজের ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে। সকলেরই একটা দাবি- রামিসা হত্যার বিচার চাই। ভিড় ঠেলে ৩৭ নম্বর বাসার সামনে দেখা যায়-কালো কলাবসিবল গেট। গেটের উপরে সাদা ব্যানারে লেখা-‘রামিসা হত্যার বিচার চাই’।


Nadim Ahammed

১ মাস আগে

But the visit was too much urgent. No doubt in this regard. প্রধানমন্ত্রী মূলত রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামষ্টিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। ব্যক্তিগত তদারকি বনাম প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা: বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে বা মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রী হয়তো নির্দিষ্ট কিছু নাগরিকের খোঁজখবর নিতে পারেন বা ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করতে পারেন। তবে একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার কাজটি কোনো একক ব্যক্তির পরিদর্শনের ওপর নির্ভর না করে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়া উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

Monshur Ahmed

১ মাস আগে

ভরসা যেন চাটুকার এবং সংবিধান বিশেষভাবে অজ্ঞদের দ্বারা বিশ্বাস ভঙ্গের কারণ না!! সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি এখন এই দিকে!! এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করতে হবে যেন ভবিষ্যতে অপরাধীরা এই ধরনের অপরাধ করার আগে ১০০ বার চিন্তা করে!! প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আশার জায়গাটা যেন বাস্তবায়িত হয়!!

Mustafa Zia Ahsan

১ মাস আগে

Only one solution- Firing squad. Immediately get action and do it openly between crowds.

জাকির হোসপন

১ মাস আগে

এই বাভে প্রধানমন্ত্রী কয় জনের বাড়িতে যাবেন এটা হাস্যকর এই বাবে আইন চলতে পারেনা

মন্তব্য করুন