কুল-বিএসপিএ বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হামজা

কুল-বিএসপিএ বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হামজা

ফন্ট সাইজ:

কুল-বিএসপিএ বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার পেলেন ফুটবলার হামজা চৌধুরী। নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও হকি খেলোয়াড় আমিরুল ইসলামকে পেছনে ফেলে হামজা জিতে নিয়েছেন ২০২৫ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের (স্পোর্টস পার্সন অব দ্য ইয়ার) সর্বোচ্চ খেতাব। একই সঙ্গে ক্রীড়ামোদীদের ভোটে তিনি জিতেছেন পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড। ২০২৫ সালে ফুটবলে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। ট্রেবল জয়ে এবারের বিএসপিএ অ্যাওয়ার্ডে রাজত্ব করলেন এ ফুটবলার। পুরস্কার পাওয়ার পর ভিডিও বার্তায় হামজা বলেন, ‘আমি এই পুরস্কার পেয়ে খুবই গর্ববোধ করছি। কুল-বিএসপিএ অ্যাওয়ার্ড দেশের ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার।

আমি আমার পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও বন্ধুদের এবং ফ্যানদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি, সারা বছর ধরে আমাকে ও জাতীয় দলকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য।’ গতকাল রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। হামজা ইংল্যান্ডে থাকার তার পুরস্কার গ্রহণ করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার ও সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম।

২০২৫ সালে লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেক হয় হামজার। এরপর ৪ঠা জুন ভুটানের বিপক্ষে প্রথম গোলের দেখা পান। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জার্সিতে হামজা ৪ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করেন। সরাসরি যুক্ত থাকতে না পারলেও অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন হামজা। তিনি বলেন, ‘এটা অনেক সম্মানের। সতীর্থ, কোচ, ফেডারেশনের কর্মকতা ও সমর্থকদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

১৯৬৪ সালে বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) দেশে প্রথম ক্রীড়াক্ষেত্রে পুরস্কারের প্রবর্তন করে। এ বছর ১৫টি বিভাগে সর্বমোট ১৪ জন বর্তমান ও সাবেক ক্রীড়াবিদ, সংগঠক এবং সংস্থাকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে মনোনীত ক্রীড়াবিদ প্রত্যেকে ৩০ হাজার টাকা অর্থপুরস্কারের পাশাপাশি একটি ট্রফি ও সম্মাননা লাভ করেন। এবছর যৌথভাবে বর্ষসেরা ফুটবলার হয়েছেন হামজা চৌধুরি ও ঋতুপর্ণা চাকমা। বর্ষসেরা হকি খেলোয়াড়ের পুরস্কারে পান যুব বিশ্বকাপে ১৮ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া আমিরুল ইসলাম। বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জেতেন টাইগার লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। এ বছর তিনি বিগব্যাশ ও পাকিস্তান সুপার লীগে খেলেছেন। বর্ষসেরা আরচারের পুরস্কার পেয়েছেন আব্দুর রহমান আলিফ। ২০২৫ সালে তিনি এশিযা কাপ আরচারিতে স্বর্ণ জেতেন। বর্ষসেরা টেবিল টেনিস খেলোয়াড় হন খই খই সাই মারমা।

বর্ষসেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন আল আমিন জুমার। উদীয়মান ক্রীড়াবিদ হন পেসার রিপন মন্ডল। বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জেতেন মেযেদের সাফের শিরোপা জেতানো বৃটিশ কোচ পিটার বাটলার। সেরা আম্পায়ার হন সেলিম লাকী। সেরা সংগঠকের পুরস্কার জেতেন ওয়ার্ল্ড এশিয়া আরচারির সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। তৃণমূলের ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পুরস্কারে ভূষিত হন নাহিদ রানা-শরীফুল ইসলামদের গুরু আলমগীর কবীর। বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন শাহনাজ পারভীন মালেকা। সেরা পৃষ্ঠপোষকের পুরস্কার জেতে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। সক্রিয় ফেডারেশনের পুরস্কার উঠে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের হাতে।

বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসপিএ সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান রাজিব। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জনাব আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড অনেক বছর ধরে হয়ে আসছে। আগে ফুটবলার হিসেবে এখানে আসতাম। এখন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে আসলাম। আমার মনে হয়, এটি আমাদের ক্রীড়াঙ্গণের অর্জন।’ অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের সিইও মালিক মোহাম্মদ সাইদ। দেশের স্বনামধন্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড কুল এবার নিয়ে টানা ১১বার এই মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। মালিক মোহাম্মদ সাইদ বলেন, ‘বিএসপিএ প্রাচীন ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন এবং আমি বিএসপিএকে ধন্যবাদ জানাই এই অ্যাওয়ার্ডে আমাদেরকে সাথে রাখার জন্য। সভাপতির বক্তব্যে রেজওয়ান উজ জামান রাজিব বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের স্পোর্টস সাংবাদিকতা বিশ্বমানের। কিন্তু এখানে অনেক কিছু উন্নতি করার সুযোগ আছে। বিএসপিএ একটি স্পোর্টস জার্নালিস্ট ইনস্টিটিউট করতে চায়। এজন্য সকলকে পাশে চাই।’




ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন