ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬ আসনে কে কার প্রতিদ্বন্দ্বী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬ আসনে কে কার প্রতিদ্বন্দ্বী

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি আসনের একটি ছাড়া বাকি সবক’টিতে নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এসব আসনে কে, কার প্রতিদ্বন্দ্বী, লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হবেন, তা নিয়েই এখন সরব আলোচনা। এমনকি প্রার্থী বিশেষের কারণে দেশ-বিদেশের মানুষের নজর রয়েছে একটি আসনে। জেলার ৬টি আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৪৯ জন। তবে তাদের অনেকেই নামকাওয়াস্তে প্রার্থী। প্রচার-প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি তাদের। বিএনপি জেলার দু’টি আসন ২ এবং ৬ জোট প্রার্থীকে ছেড়ে দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী তাদের জোটের প্রার্থীদের দিয়েছে ২, ৩ ও ৫ আসন। অন্য ৩টি আসনে জয়ের টার্গেট তাদের। জামায়াতের ছেড়ে দেয়া আসনের দু’টি নিয়েছে এনসিপি এবং ১টি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। জোট ও নিজ দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন আসনে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করে গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর পীর চরমোনাই মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম, এনসিপি’র মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে ৮ প্রার্থীর মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে বিএনপি’র আবদুল হান্নান, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের এ কে এম কামরুজ্জামান মামুন ও ইকবাল চৌধুরী (কলারছড়ি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ কে এম আমিনুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা)। তাদের মধ্যে মামুন ও ইকবাল দু’জনেই বিএনপি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই প্রার্থীরা দলের ভোটেই কমবেশি ভাগ বসাচ্ছেন। এর বাইরে ব্যক্তিগত যোগ্যতায় ভোট টানতে চাইছেন তারা। সাবেক এমপি এস এম সাফি মাহমুদকে নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন মামুন। ফলে নানা হিসেবে এগিয়ে মামুন। বিভক্তির এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফল পেতে মরিয়া জামায়াত। সে কারণে এখানে বিএনপি প্রার্থী হান্নানের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুন এবং জামায়াত প্রার্থী আমিনুলের ত্রিমুখী লড়াইয়ের হিসাব করা হচ্ছে। অন্য ৪ প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন জাতীয় পার্টির মো. শাহআলম (লাঙ্গল), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শরীফ মৃধা (আপেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হুসাইন আহমদ (হাতপাখা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান (হাঁস)। সরাইল-আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর উপজেলার ২ ইউনিয়ন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। বিএনপি জোটপ্রার্থী, জমিয়ত উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি’র সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার লড়াইয়ে প্রচারণার শুরু থেকে সারা দেশে আলোচিত হয়ে উঠেছে এ আসন। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি পর্যবেক্ষক দল ঘুরে গেছেন। এ ছাড়া এ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের এনসিপি’র আশরাফ উদ্দিন (শাপলাকলি), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেছার আহমদ (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা (লাঙ্গল), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র তৈমুর রেজা মো. শাহজাদ (তারা), এস এন তরুন দে (কলারছড়ি), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. মাঈনউদ্দিন (আপেল), আম জনতা পার্টির শরিফা আক্তার (প্রজাপতি)। তবে ভোটারদের হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ থাকবে জুনায়েদ আল হাবিব ও রুমিন ফারহানার মধ্যেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে ভোটের হাওয়া একতরফা। বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থী মো. খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের (ধানের শীষ) সঙ্গে প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন ৩ প্রার্থী ১১ দলীয় জোটের এনসিপি’র আতাউল্লাহ (শাপলাকলি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নিয়াজুল করিম (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির রেজাউল ইসলাম ভূইয়া (লাঙ্গল)। নানা বিবেচনায় অনেক পিছিয়ে থাকা এই প্রার্থীদের মধ্যে কে শ্যামলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হন সেটি ফল প্রকাশের পরই বলা সম্ভব হবে। বিএনপি প্রার্থী শ্যামল ২০০৮ সাল থেকে এই ভোটের মাঠে রয়েছেন। তিনি এরআগে একটি উপ-নির্বাচন এবং সাধারণ নির্বাচন করেন আওয়ামী লীগের র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরীর সঙ্গে। এখানে ৭ প্রতিদ্বন্দ্বীর অন্য ৩ জন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. আবু হানিফ (আপেল), স্বতন্ত্র মো. ওমর ইউসুফ খান (হরিণ), ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ আয়েশা আক্তার (চেয়ার)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে ৭ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি’র মুশফিকুর রহমান (ধানের শীষ) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আতাউর রহমান সরকারের (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যে হবে দ্বিমুখী লড়াই। সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান ২০০১ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী নতুন হলেও সাংগঠনিক অবস্থান ভালো হওয়ায় লড়াইয়ের হিসাবে আসেন। তবে একসময় জাতীয় পার্টির দখলে থাকা এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. জহিরুল হক খানও (লাঙ্গল) পাল্লা দিয়ে চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য ৪ প্রার্থী হচ্ছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শাহীনখান (আম), গণঅধিকার পরিষদের মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (ট্রাক), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রফি উদ্দিন (আপেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জসিম (হাতপাখা)। ২১ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভা নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনেও দ্বিমুখী লড়াইয়ের হিসাব। বিএনপি’র আবদুল মান্নানের (ধানের শীষ) সঙ্গে স্বতন্ত্র কাজী নাজমুল হোসেন তাপস (ফুটবল)। তাপস ২০১৮ সালে এই আসনে দলের প্রার্থী ছিলেন। তার পিতা ৪ বারের সাবেক এমপি প্রয়াত কাজী মো. আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমজাদ হোসাইন (রিকশা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নজরুল ইসলাম নজ (হাতপাখা) প্রতিদ্বন্দ্বীতার হিসেবে রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র মো. শাহীন খান (কাস্তে), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল হক (আপেল), গণসংহতি আন্দোলনের নাহিদা জাহান (মাথাল), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম (লাঙ্গল)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ১০ জন। এখানেও বিএনপি জোটের প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (মাথাল) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মহসীনের (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ের কথা বলা হচ্ছে। এ ছাড়া ভোটারদের মাঝে আলোচনায় রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাইদ উদ্দিন খান (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবু কায়েস সিকদার (ফুটবল) ও ড. মো. সাইদুজ্জামান কামাল (হরিণ)। এই আসনে আওয়ামী লীগের ভোটকে ফ্যাক্টর মনে করা হয়। অন্য ৫ প্রার্থী হচ্ছেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. আবু নাসের (মোমবাতি), গণঅধিকার পরিষদের সফিকুল ইসলাম (ট্রাক), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. সফিকুল ইসলাম (আম), জেএসডি’র কে এম জাবির (তারা), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. হাবিবুর রহমান (আপেল)। জেলার মোট ভোটার ২৫ লাখ ৬৮ হাজার ১২৭। ৮০৫ কেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি ঝুকিপূর্ণ। এরমধ্যে অধিক ঝুকিপূর্র্ণ কেন্দ্র ৯২টি। সাধারণ কেন্দ্র সংখ্যা ২৩১।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন