দেবিদ্বারে পুলিশের তান্ডবে ৫ ঘরবাড়ি-ভাংচুরের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে রাস্তা ব্যবহারে বাধা দেয়ার অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে মব সন্ত্রাসের স্বীকার হয়েছেন এক এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য। এতে পুলিশ ক্ষুব্ধ হয়ে ৩ দফা অভিযান চালিয়ে অন্তত ৫টি বাড়ি- ঘরে হামলা-ভাংচুর করেছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে বেড়াতে আসা ৩ নারী মেহমান ও এক গৃহবধূসহ ৫ জনকে পিটিয়ে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। শুক্রবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশের তান্ডবে কয়েকটি ঘরবাড়ি, দরজা, জানালা, আসবাবপত্র, রান্নাঘর, মাটির চুলা, ভাত ও তরকারির ডেক, রান্না করা খাবার ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের প্রতিবেশী আকলিমা আক্তার নামে এক নারী বাড়িতে ধান চড়ানোর মেশিন নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবেশী আইয়ুব ও রাসেল বাধা প্রদান করেন। এই ঘটনায় ভোক্তভূগী আকলিমা আক্তার দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ওই অভিযোগের ঘটনা তদন্তে এসে রাসেল ও আইয়ূবকে আটক করে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় সফিকুল ইসলাম নামে এক প্রতিবেশী পুলিশকে উভয়ের সাথে কথা বলে সঠিক তদন্ত করার কথা বলেন। এ সময় পুলিশ তাকে (সফিককে) লাঠি দিয়ে আঘাত করে। সফিকের স্ত্রী হালিমা আক্তার স্বামীকে কেন আঘাত করেছে বলতে গেলে তাকেও লাথি দেয় পুলিশ। পরে এ নিয়ে পুলিশ ও উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে দেবিদ্বার থানা উপ পরিদর্শন(এসআই) আবু তাহের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত এবং সঙ্গীয় দুই পুলিশ আহত হন। পুলিশ নিরুপায় হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

বিকেল ৩টায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে রাসেল, আইয়ূব, সফিক তাদের আটকের চেষ্টা চালান। তাদের না পেয়ে ফের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযানের নামে ভাংচুর চালায়। তবে ঘটনাস্থলে সরজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যপারে সফিকের পিতা আব্দুল আলীম(৭৫) জানান, রাস্তা ব্যবহারে কোন বাঁধা ছিলনা, পারিবারিক দ্বন্দ্বকে ঘিরে আকলিমা থানায় রাস্তা নিয়ে অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্তে আসে। এ বিষয়ে এসআই আবু তাহের জানান, প্রতিবেশীর চলাচলের রাস্তা বন্ধের লিখিত অভিযোগের তদন্তে গিয়ে অভিযুক্ত প্রতিপক্ষের মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে তিনিসহ ৩ পুলিশ আহত হয়েছেন। ঘরবাড়ি ভাংচুরের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, এক নারীর অভিযোগের সত্যতা তদন্তে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিপক্ষ বাদীর উপর চড়াও হয়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে এসআইসহ ৩ পুলিশ আহত হয়। তিনি বাড়িঘরে হামলা ভাংচুরের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ আসামী ধরতে গেলে দরজা, জানালা খোলার জন্য লাঠি দিয়ে আঘাত করে। ঘটনার একটু পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাংচুরের কোন ঘটনা দেখি নাই। ৫ জনকে আটক করে থানায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন