সরাইলে জমে উঠেছে পশুর হাট

সরাইলে জমে উঠেছে পশুর হাট

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জমে উঠেছে পশুর হাট। স্থায়ী অস্থায়ী সকল বাজারেই ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। আগের তুলনায় বিক্রিও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। দামও রয়েছে নাগালের মধ্যে। প্রতিদিনই উপজেলার কোথাও না কোথাও বাজার বসছেই। আবার অনুমোদনবিহীন বাজারও বসছে কিছু জায়গায়। তবে এখনো আরেকটু অপেক্ষা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতার একাংশ। সরজমিন অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলায় সরকার অনুমোদিত একমাত্র পশুর হাট সদর উপজেলার বড়দেওয়ান পাড়া ও বড্ডাপাড়া সংলগ্ন খালি জায়গায়। এ ছাড়া গত ৪-৫ বছর ধরে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে ৬-৭টি অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দিয়ে আসছেন উপজেলা প্রশাসন।

বিধি মোতাবেক ইজারা দেয়া হচ্ছে হাটগুলো। এর মধ্যে অরুয়াইল, পাকশিমুল, শাহবাজপুর, পানিশ্বর ও চুন্টায় রয়েছে অস্থায়ী হাট। সরাইল সদরের বাজার ঘুরে দেখা যায়, মহিষে সয়লাব বাজার। তবে মাঝারি ও ছোট সাইজের ষাঁড় গরুর চাহিদাই বেশি। ৩ মণ ওজনের ষাঁড় বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫-১০ হাজার টাকায়। আর ৪ মণ ওজনের ষাঁড়ের মূল্য হাঁকাচ্ছেন ১ লাখ ২০-৩০ হাজার টাকা। আরও অধিক ওজনের ষাঁড় বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ বা আড়াই লাখ টাকায়। আবার ষাড়ও মিলছে বাজারে। এছাড়া বিভিন্ন সাইজের গাভীর দিকেও ঝুঁকছে এক শ্রেণির ক্রেতা। ৫ লাখ থেকে ১ লাখ ২০-৩০ হাজার টাকায় মিলছে মহিষ। বিভিন্ন সাইজের খাসির চাহিদাও কম নয়। শুক্র ও সোমবারে এই হাটে জেলার বিভিন্ন উপজেলা এমনকি আশপাশের জেলা থেকেও ট্রাক পিকআপে করে আসে গরু। গরুর পাইকার আব্দুর রশিদ বলেন, ৮টি ষাঁড় এনেছি। দুপুর ১টা থেকে এখন ৪টা। ৩ ঘণ্টায় মাত্র ২টি ষাঁড় বিক্রি করেছি। সামান্য লাভেই ছেড়ে দিয়েছি। বিক্রেতা জমশেদ মিয়া বলেন, অধিকাংশ ক্রেতা ক্রয় করতে আসেননি। তারা ঘুরে দেখে যাচাই করতে আসছেন। ক্রেতা হযরত আলী, করিম মিয়া ও সালাহউদ্দিন বলেন, বর্তমানে গত কয়েক দিনের তুলনায় বাজারে পশু বেশি উঠছে। মূল্যও খুব বেশি না।

তাই বিক্রি অনেকটা বেড়েছে। এখন প্রতিদিন বিক্রি বাড়বে। তবে এবার একেবারে শেষের দিকে পশুর মূল্য কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সরাইলে অনুমোদিত হাটগুলোর বাহিরে অবৈধভাবে গ্রাম এলাকায় পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের উপর কালিকচ্ছ বাজার, শাহজাদাপুর ও দেওড়া গ্রামে বসছে অনুমোদনহীন হাট। দীর্ঘদিনের পুরাতন ও স্থায়ী সরাইল বাজারের ইজারাদার মো. আহাদ আলী বলেন, আমরা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে বাজার নিয়ে থাকি। যেনতেন ভাবে অস্থায়ী ও অবৈধ হাটগুলো আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ সব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করছি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন