অবশেষে ঘুচলো দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জাদুকরী পারফরম্যান্সে ২০১৯ সালের পর আবারও সৌদি প্রো লীগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো আল-নাসর। রিয়াদের আল-আওয়াল পার্কে লীগের শেষ রাউন্ডের মহানাটকীয় ম্যাচে দামাককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের ১১তম লীগ শিরোপা নিশ্চিত করলো তারা। ২০২২ সালের শেষভাগে সৌদি আরবে পাড়ি জমানোর পর এটিই সিআরসেভেনের প্রথম কোনো মেজর ট্রফি জয়। লীগের শেষ ম্যাচে সমীকরণ ছিল স্পষ্ট। শিরোপা জিততে হলে আল নাসরকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পেতেই হতো। কারণ, অন্য ম্যাচে আল ফায়হাকে ১-০ গোলে হারিয়ে আল হিলাল ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে রাখে। আল নাসর ড্র করলে হেড-টু-হেড রেকর্ডে চ্যাম্পিয়ন হতো নেইমার জুনিয়রের সাবেক ক্লাব আল হিলালই।
চাপের মুখে নিজেদের কাজটা ঠিকভাবেই সম্পন্ন করে রোনালদোরা। আল-নাসর দুই গোলে এগিয়ে গেলে ৫৭তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে এক গোল শোধ করে দামাক। তাতে আল নাসর শিবিরে তীব্র উৎকণ্ঠা ছড়ায়। তবে বিপদের মুহূর্তে দলের হাল ধরেন মহাতারকা রোনালদো নিজেই। ৬৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে এক ট্রেডমার্ক ফ্রি-কিকে বল জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ৩-১ করেন তিনি। এরপর ৮০তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের শেষ গোলটি করেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।
এই গোলের পরপরই মাঠে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগেই শিরোপা নিশ্চিত বুঝে আবেগে কেঁদে ফেলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। গ্যালারিতে থাকা পরিবারের দিকে আঙুল উঁচিয়ে তার এই কান্না ফুটবল বিশ্বকে আবেগে ভাসিয়েছে। ৫টি চ্যাম্পিয়নস লীগ ও ইউরোসহ ৩৪টি ট্রফি জেতা রোনালদোর আল নাসরের হয়ে এটিই প্রথম বড় শিরোপা।
৩৪ ম্যাচে ২৮ জয় ও দুই ড্রয়ে ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে লীগ শেষ করল আল নাসর। এই মৌসুমে লীগে ২৮ গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট করলেন রোনালদো। এর মাধ্যমে ক্যারিয়ারে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৯৭৩-এ, যা তাকে হাজারতম গোলের মাইলফলকের আরও কাছে নিয়ে গেল। একই সঙ্গে ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির পর চতুর্থ কোনো দেশের লীগ শিরোপা জয়ের অনন্য কীর্তি গড়লেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার।
ম্যাচের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রফিসহ একটি ভিডিও আপলোড করে রোনালদো লেখেন, ‘এটি আমাদের জন্য অনেক বড় কিছু।’ পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের ট্রফি জেতার ক্ষুধার তীব্রতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। ম্যানচেস্টার, মাদ্রিদ অথবা তুরিনের মতো রিয়াদের মাঠেও তিনি কঠোর পরিশ্রমের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তবে ট্রফিহীন ২০২২-২৩ মৌসুমের শেষভাগটা তার জন্য ছিল চরম হতাশার। মাঠে মেজাজ হারিয়ে বল লাথি মারা, পানির বোতলে লাথি, ডাগআউটের ওপর ক্ষোভ উগরে দেওয়া, রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ অথবা সেলফি তুলতে আসা প্রতিপক্ষ কোচিং স্টাফের সদস্যকে ধাক্কা দেয়া্তসবখানেই তার সেই তীব্র হতাশা ফুটে উঠে। সেই অন্ধকার সময় কাটিয়ে অবশেষে সুখের আনন্দাশ্রুতে ভাসলেন রোনালদো।
বড় শিরোপা বিবেচনায় নিলে, টানা ১৫ প্রতিযোগতায় ব্যর্থ হওয়ার পর এই বহুল আকাঙ্ক্িষত ট্রফিটি জিতলেন তিনি। রোনালদোর নিবেদন নিয়ে আরও ধারণা পাওয়া যায় ম্যাচের পর তার আল নাসর ও স্বদেশি সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্সের কথায়। তিনি বলেন, ‘ক্রিস কয়েক বছর ধরেই এখানে নিজের প্রথম শিরোপা জেতার চেষ্টা করে যাচ্ছে, বিশেষ করে লীগ শিরোপাটি। কেননা, আরবে তারা অনেক বেশি ম্যাচ খেলে। আমি তো প্রতিদিনই ওর সঙ্গে থাকি, তাই জানি বিষয়টা।’ রোনালদোর কেঁদে ফেলার মুহূর্ত নিয়ে ফেলিক্স আরও বলেন, ‘আমি জানি, এটি নিয়ে (শিরোপা না জেতা) ক্রিস্টিয়ানো কতটা মনের ভেতরে কষ্ট পায়। আমি জানতাম, সে এই শিরোপা জিততে কতটা উদ্?গ্রীব ছিলো। তাই আমি গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরেছি। তখন মনে হচ্ছিল, আর মাত্র কয়েক মিনিট, তারপরই কাজটা (শিরোপা নিশ্চিত) হয়ে যাবে।’
