আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগে শুরু হয়ে গেছে এক চরম রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির এক অবিশ্বাস্য ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে প্রতিবেশী রাজ্য নিউজার্সির কর্মকর্তাদের। বৃহস্পতিবার এক জমকালো সংবাদ সম্মেলনে মামদানি ঘোষণা করেন, নিউ ইয়র্কের সাধারণ নাগরিকেরা মাত্র ৫০ ডলারের বিনিময়ে ১,০০০টি বিশ্বকাপের টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন। তবে এই সুযোগ কেবল ‘বিগ অ্যাপল’ খ্যাত নিউ ইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্যই প্রযোজ্য। আর এই ঘোষণার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে নিউজার্সি প্রশাসন। নিউজার্সির গভর্নর মাইকি শেরিলের মুখপাত্র স্টিফেন সিগমন্ড অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, ‘নিউজার্সির বাসিন্দাদের ব্যয়ের কথা ফিফা পাত্তা না দেয়াটা নতুন কিছু নয়।
গভর্নর শেরিল যে কেন আমাদের নিজেদের খরচ কমানোর জন্য এত কঠোর পরিশ্রম করছেন, এটি তারই আরেকটি বড় প্রমাণ।’ ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেতরের খবর হলো ফিফা এবং ‘নিউ ইয়র্ক-নিউজার্সি হোস্ট কমিটি’র সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পুরস্কার পাচ্ছেন মামদানি। অন্যদিকে, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ফিফার নানা নীতির সমালোচনা করায় এক প্রকার ‘শাস্তি’ দেয়া হচ্ছে নিউজার্সির গভর্নরকে। যদিও নিউজার্সির এক কর্মকর্তা পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তারাও শিগগিরই কর্পোরেট স্পনসরদের সহায়তায় নিজস্ব ছাড়ের টিকিট প্রোগ্রাম চালু করবেন।
এই পুরো চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সরাসরি সম্মতিতে। নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে মেয়র মামদানি বেশ গর্বের সঙ্গেই সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এটি নিশ্চিত করছি যেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ সেই খেলা থেকে বঞ্চিত না হয়, যা তৈরিতে তাদের নিজেদেরও অবদান রয়েছে।’
এদিকে, এই লটারিকে স্রেফ একটি ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ বা সস্তা প্রচারণামূলক চমক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নিউজার্সির দুই ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য নেলী পো এবং ফ্রাঙ্ক প্যালন জুনিয়র। ফিফার টিকিট নীতির সমালোচনা করে এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘এই সস্তা চমক টিকিটের মূল দামের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, সাতটি ম্যাচের জন্য মাত্র ১,০০০টি টিকিট মানে মোট টিকিটের মাত্র ০.১৭ শতাংশ! ফিফাকে অবশ্যই আমাদের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে এবং এখনই সমস্ত ভক্তদের জন্য টিকিটের দাম কমানোর ব্যাপক ব্যবস্থা নিতে হবে। আসল পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সময় কিন্তু ফুরিয়ে আসছে।’
নিরাপত্তার স্বার্থে এই লটারির টিকিট বিজয়ীদের হাতে আগেভাগেই তুলে দেয়া হবে না। খেলার দিন বাসে ওঠার সময় সেগুলো তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হবে। যেখানে বর্তমানে কালোবাজারে বা অফিসিয়াল সাইটে এক একটি টিকিটের দাম ১,৫৫০ ডলার ছাড়িয়েছে, সেখানে এই ৫০ ডলারের লটারি সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ইতিমধ্যে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
